দৈনিক সমাবেশ

ইসলামী ব্যাংকে তৃতীয় দিনেও পাল্টাপাল্টি অবস্থান, গ্রাহক ফোরাম দিলকুশায়, চাকরিচ্যুতরা প্রেস ক্লাবে

ইসলামী ব্যাংকে তৃতীয় দিনেও পাল্টাপাল্টি অবস্থান, গ্রাহক ফোরাম দিলকুশায়, চাকরিচ্যুতরা প্রেস ক্লাবে

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়কে ঘিরে টানা তৃতীয় দিনের মতো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং ব্যাংকটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দিলকুশার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার ও মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতা-কর্মীরা। সেখানে তারা বিক্ষোভ করেন এবং ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিও জানান তারা।

অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেন। পরে তারা সচিবালয়ের দিকে পদযাত্রা করেন। একপর্যায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে ঢাকায় এসেছেন।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ‘ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা গ্রাহকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবেন।’

ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করার দাবিও জানান তারা। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধ শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের দাবিও করেন তারা।

গ্রাহক ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণের সময়ে কোনো সার্কুলার বা পরীক্ষা ছাড়াই চট্টগ্রামের পটিয়াসহ নির্দিষ্ট এলাকার অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে নিয়মিতকরণের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ এখন চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ করার পর কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বকেয়া সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতেই তারা আন্দোলন করছেন।

আন্দোলনকারী কর্মকর্তা টিপু বলেন, চাকরি হারানোর পর অনেকেই পরিবার নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন।

গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচির বিষয়ে টিপু বলেন, তাদের আন্দোলনে বাধা দিতেই এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। এর পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ইসলামী ব্যাংকে তৃতীয় দিনেও পাল্টাপাল্টি অবস্থান, গ্রাহক ফোরাম দিলকুশায়, চাকরিচ্যুতরা প্রেস ক্লাবে
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক সমাবেশ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইসলামী ব্যাংকে তৃতীয় দিনেও পাল্টাপাল্টি অবস্থান, গ্রাহক ফোরাম দিলকুশায়, চাকরিচ্যুতরা প্রেস ক্লাবে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়কে ঘিরে টানা তৃতীয় দিনের মতো পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছেন সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং ব্যাংকটির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দিলকুশার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার ও মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের নিচে অবস্থান নেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতা-কর্মীরা। সেখানে তারা বিক্ষোভ করেন এবং ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবিও জানান তারা।

অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকাল থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেন। পরে তারা সচিবালয়ের দিকে পদযাত্রা করেন। একপর্যায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে ঢাকায় এসেছেন।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ‘ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা গ্রাহকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবেন।’

ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করার দাবিও জানান তারা। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধ শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের দাবিও করেন তারা।

গ্রাহক ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণের সময়ে কোনো সার্কুলার বা পরীক্ষা ছাড়াই চট্টগ্রামের পটিয়াসহ নির্দিষ্ট এলাকার অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে নিয়মিতকরণের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ এখন চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ করার পর কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বকেয়া সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতেই তারা আন্দোলন করছেন।

আন্দোলনকারী কর্মকর্তা টিপু বলেন, চাকরি হারানোর পর অনেকেই পরিবার নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন।

গ্রাহক ফোরামের পাল্টা কর্মসূচির বিষয়ে টিপু বলেন, তাদের আন্দোলনে বাধা দিতেই এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। এর পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


দৈনিক সমাবেশ

প্রকাশকঃ মো: রবিউল ইসলাম ।
সম্পাদকঃ নিজামুল হক ।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: 2/2-c পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ই-মেইল: dainiksomabesh@gmail.com
টেলিফোনঃ 02226638261 মোবাইলঃ +880 1408-350003
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সমাবেশ