রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন আহত হওয়ার পর ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। অভিযানে পুলিশের লুণ্ঠিত গোলাবারুদসহ দুটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ৩০ আগস্ট গেন্ডারিয়া থানাধীন করাতীটোলা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে এক নারীসহ তিনজন সাধারণ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে আশা আক্তার (২০) ও সিয়াম (১৮) পথচারী এবং আলমগীর (৩৩) চা-দোকানি।
গোলাগুলির সময় আশার ডান পায়ে, সিয়ামের বুকের বাম পাশে এবং আলমগীরের মাথায় গুলি লাগে। আহত আলমগীর হোসেন রাসেল ও সিয়াম হোসেন রুবেলের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। আয়েশা আক্তারও সুস্থ ও স্থিতিশীল আছেন। তবে তার পায়ে থাকা গুলি এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর র্যাব-১০, সিপিসি-১, যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গেন্ডারিয়া থানাধীন মুন্সিরটেক এলাকা থেকে মোহাম্মদ জিসান (১৯) ও মোহাম্মদ রমজান (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ শাহীন (৩৪)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া পৃথক অভিযানে ৯ সেপ্টেম্বর শাবাব হোসেন শৈকত (২৯) ও মোহাম্মদ মাহিম (১৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, শাবাব হোসেন শৈকতকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ১২ রাউন্ড তাজা গুলি, তিনটি ম্যাগাজিনসহ দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা মূল্যমানের ৪২০ পিস ইয়াবা, ৪০০ পুরিয়া হেরোইন, ৯০০ গ্রাম গাঁজা, নগদ অর্থ ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। শৈকত যাত্রাবাড়ী থানার তিনটি মাদক মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া ১২ রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিনের মধ্যে একটি ম্যাগাজিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্রের ম্যাগাজিন ও গোলাবারুদের অংশ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
র্যাব-১০-এর ধারাবাহিক অভিযানে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র, মাদক ও পুলিশের লুণ্ঠিত গোলাবারুদের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব-১০ জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন আহত হওয়ার পর ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। অভিযানে পুলিশের লুণ্ঠিত গোলাবারুদসহ দুটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ৩০ আগস্ট গেন্ডারিয়া থানাধীন করাতীটোলা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে এক নারীসহ তিনজন সাধারণ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে আশা আক্তার (২০) ও সিয়াম (১৮) পথচারী এবং আলমগীর (৩৩) চা-দোকানি।
গোলাগুলির সময় আশার ডান পায়ে, সিয়ামের বুকের বাম পাশে এবং আলমগীরের মাথায় গুলি লাগে। আহত আলমগীর হোসেন রাসেল ও সিয়াম হোসেন রুবেলের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। আয়েশা আক্তারও সুস্থ ও স্থিতিশীল আছেন। তবে তার পায়ে থাকা গুলি এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর র্যাব-১০, সিপিসি-১, যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গেন্ডারিয়া থানাধীন মুন্সিরটেক এলাকা থেকে মোহাম্মদ জিসান (১৯) ও মোহাম্মদ রমজান (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ শাহীন (৩৪)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া পৃথক অভিযানে ৯ সেপ্টেম্বর শাবাব হোসেন শৈকত (২৯) ও মোহাম্মদ মাহিম (১৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, শাবাব হোসেন শৈকতকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ১২ রাউন্ড তাজা গুলি, তিনটি ম্যাগাজিনসহ দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা মূল্যমানের ৪২০ পিস ইয়াবা, ৪০০ পুরিয়া হেরোইন, ৯০০ গ্রাম গাঁজা, নগদ অর্থ ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। শৈকত যাত্রাবাড়ী থানার তিনটি মাদক মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া ১২ রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিনের মধ্যে একটি ম্যাগাজিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্রের ম্যাগাজিন ও গোলাবারুদের অংশ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
র্যাব-১০-এর ধারাবাহিক অভিযানে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র, মাদক ও পুলিশের লুণ্ঠিত গোলাবারুদের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব-১০ জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে।

মতামত