দৈনিক সমাবেশ
প্রকাশ : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিএসসিসি কর্তৃক নবনির্মিত 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' এবং 'ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন' - এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডিএসসিসি কর্তৃক নবনির্মিত 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' এবং 'ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন' - এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আমি স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী, হাসপাতালের নই; রোগ প্রতিরোধই সরকারের মূল অগ্রাধিকার

আমি স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী, হাসপাতালের নই; রোগ প্রতিরোধই সরকারের মূল অগ্রাধিকার

পদত্যাগ নিয়ে রাতভর আলোচনার পর আজ দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

পদত্যাগ নিয়ে রাতভর আলোচনার পর আজ দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মসলিন গবেষণায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা, প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান - বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর

মসলিন গবেষণায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা, প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান - বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর

প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে উন্নয়ন করতে হবে: শেখ রবিউল আলম

প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে উন্নয়ন করতে হবে: শেখ রবিউল আলম

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা সংখ্যা: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা সংখ্যা: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়াদান ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিবের

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়াদান ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিবের

দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস

দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ফায়ার সার্ভিস

গণমাধ্যমের সুরক্ষায় অংশীজনদের সুপারিশ আমলে নিয়ে খসড়া প্রণয়ন করা হবে - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গণমাধ্যমের সুরক্ষায় অংশীজনদের সুপারিশ আমলে নিয়ে খসড়া প্রণয়ন করা হবে - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রস্তাবিত 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' যাতে কোনোভাবেই কোনো নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয় এবং কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যেন এর শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণ এবং বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমেই এই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

মন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে (কক্ষ নং: ১২০১, বিল্ডিং নং: ৬) 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়া পর্যালোচনার নিমিত্ত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কন্সালটেশন সভা শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পর্যালোচনার বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সংশোধন আনার লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত খসড়া বিলটি ইতিপূর্বে মন্ত্রিসভায় (কেবিনেট) উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা থেকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যাতে সাইবার স্পেসে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সাথে বিস্তৃত আলোচনা ও পরামর্শ করা হয়। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আইনটি যাতে কোনো নিপীড়নমূলক হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত সংগ্রহের জন্য খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সাইবার স্পেসের ব্যবহারকারীরা তাদের মূল্যবান মতামত পাঠিয়েছেন এবং তা সরকারের পক্ষ থেকে সংকলন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, বিভিন্ন সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাজীবী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে এটি সরকারের দ্বিতীয় বৈঠক। গত ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে সম্পাদকদের সাথে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, তারা পরবর্তী সভায় সুস্পষ্ট লিখিত মতামত প্রদান করবেন বা ওয়েবসাইটে পাঠাবেন। অনেকে আজকের বক্তব্যে মতামতের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন এবং লিখিত মতামত হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

সভার আলোচনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহবুব আনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও কিছু সময় নিয়ে নিবিড় আলোচনা করা প্রয়োজন, যাতে গণমাধ্যম কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিকটিমাইজ না হয় এবং আইনের মধ্যে প্রয়োজনীয় 'সেভিং ক্লজ' বা সুরক্ষা অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করা যায়। সরকার এই প্রস্তাবটি সানন্দে গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।"

সংবাদপত্র, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে যে— কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকার এই প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত উপযুক্ত ও যুক্তিযুক্ত মনে করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ আসার পর তা বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া, মামলা বা আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যাতে অনির্দিষ্টকাল ধরে কাউকে ঝুলে থাকতে না হয়, সেজন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (Time Limit) নির্ধারণের বিধান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সার্বিক সমন্বয় ও পরামর্শ গ্রহণের সুবিধার্থে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও)-কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ প্রক্রিয়ার সমন্বয় সাধন করবে। এই সমন্বিত কার্যক্রমে সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং আইটি মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ প্যানেল সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তারা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করবেন এবং ১৫ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পর্যায়সমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাওয়ার আগে পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও অংশীজনেরা আবারও মতামত প্রদানের পূর্ণ স্বাধীনতা পান। প্রাপ্ত মতামত গ্রহণযোগ্য হলে তাও খসড়ায় যুক্ত করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর বিলটি কেবিনেটের অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। কেবিনেট অনুমোদন দিলে তা জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হবে। তবে সংসদে নেওয়া হলেও তাড়াহুড়ো করে তা পাস করা হবে না; সংসদীয় আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' এর মূল উদ্দেশ্য বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন তৈরি করতে চায়, যার মাধ্যমে দেশ, সমাজ এবং বিশেষ করে যুবসমাজকে সাইবার স্পেসের বিভিন্ন অপরাধ ও সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি (Social and Religious Harmony) এবং পারিবারিক বন্ধন ও দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের (International Standards) সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

গণমাধ্যমের সুরক্ষায় অংশীজনদের সুপারিশ আমলে নিয়ে খসড়া প্রণয়ন করা হবে - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক সমাবেশ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


গণমাধ্যমের সুরক্ষায় অংশীজনদের সুপারিশ আমলে নিয়ে খসড়া প্রণয়ন করা হবে - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

প্রস্তাবিত 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' যাতে কোনোভাবেই কোনো নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত না হয় এবং কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যেন এর শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণ এবং বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমেই এই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।

মন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে (কক্ষ নং: ১২০১, বিল্ডিং নং: ৬) 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬'-এর খসড়া পর্যালোচনার নিমিত্ত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কন্সালটেশন সভা শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পর্যালোচনার বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের সংশোধন আনার লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত খসড়া বিলটি ইতিপূর্বে মন্ত্রিসভায় (কেবিনেট) উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা থেকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যাতে সাইবার স্পেসে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সাথে বিস্তৃত আলোচনা ও পরামর্শ করা হয়। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আইনটি যাতে কোনো নিপীড়নমূলক হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মতামত সংগ্রহের জন্য খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সাইবার স্পেসের ব্যবহারকারীরা তাদের মূল্যবান মতামত পাঠিয়েছেন এবং তা সরকারের পক্ষ থেকে সংকলন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, প্রতিনিধি, বিশিষ্ট সাংবাদিক, বিভিন্ন সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাজীবী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে এটি সরকারের দ্বিতীয় বৈঠক। গত ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে সম্পাদকদের সাথে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, তারা পরবর্তী সভায় সুস্পষ্ট লিখিত মতামত প্রদান করবেন বা ওয়েবসাইটে পাঠাবেন। অনেকে আজকের বক্তব্যে মতামতের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন এবং লিখিত মতামত হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

সভার আলোচনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহবুব আনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে, মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও কিছু সময় নিয়ে নিবিড় আলোচনা করা প্রয়োজন, যাতে গণমাধ্যম কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিকটিমাইজ না হয় এবং আইনের মধ্যে প্রয়োজনীয় 'সেভিং ক্লজ' বা সুরক্ষা অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করা যায়। সরকার এই প্রস্তাবটি সানন্দে গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইন করতে চাইনি এবং চাই না। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।"

সংবাদপত্র, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে যে— কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকার এই প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত উপযুক্ত ও যুক্তিযুক্ত মনে করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অংশীজনদের কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ আসার পর তা বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া, মামলা বা আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যাতে অনির্দিষ্টকাল ধরে কাউকে ঝুলে থাকতে না হয়, সেজন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (Time Limit) নির্ধারণের বিধান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সার্বিক সমন্বয় ও পরামর্শ গ্রহণের সুবিধার্থে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও)-কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ প্রক্রিয়ার সমন্বয় সাধন করবে। এই সমন্বিত কার্যক্রমে সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং আইটি মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ প্যানেল সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তারা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করবেন এবং ১৫ দিন পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পর্যায়সমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাওয়ার আগে পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও অংশীজনেরা আবারও মতামত প্রদানের পূর্ণ স্বাধীনতা পান। প্রাপ্ত মতামত গ্রহণযোগ্য হলে তাও খসড়ায় যুক্ত করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর বিলটি কেবিনেটের অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। কেবিনেট অনুমোদন দিলে তা জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হবে। তবে সংসদে নেওয়া হলেও তাড়াহুড়ো করে তা পাস করা হবে না; সংসদীয় আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' এর মূল উদ্দেশ্য বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইন তৈরি করতে চায়, যার মাধ্যমে দেশ, সমাজ এবং বিশেষ করে যুবসমাজকে সাইবার স্পেসের বিভিন্ন অপরাধ ও সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি (Social and Religious Harmony) এবং পারিবারিক বন্ধন ও দেশীয় সংস্কৃতির সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের (International Standards) সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।


দৈনিক সমাবেশ

প্রকাশকঃ মো: রবিউল ইসলাম ।
সম্পাদকঃ নিজামুল হক ।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: 2/2-c পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ই-মেইল: dainiksomabesh@gmail.com
টেলিফোনঃ 02226638261 মোবাইলঃ +880 1408-350003
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সমাবেশ