আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট নতুন সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ও সম্প্রসারণে নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতের আয় বাড়াই’।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।
সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, নেট মিটারিং ব্যবস্থায় স্থাপিত সোলার সিস্টেম থেকে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হলে বিশেষ প্রণোদনার আওতায় ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তা কিনবে সরকার।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
দেশের সম্পদে সূর্যের আলোকে রূপান্তরিত করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ‘ইনোভেটিভ আইডিয়া’ উপস্থাপন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তারেক রহমান। তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ৩০০ মেধাবী তরুণ-তরুণী তাঁদের উদ্ভাবনী ধারণা জমা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার এমন প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী ধারণা যেন অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপগুলোর জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সোলার এক্সপো-২০২৬-এর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ খাতে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও অর্থের সংস্থান করা হবে।
কুইক রেন্টালের পরিবর্তে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এক্সপোতে সারা দেশের উদ্যোক্তা ও সেবা প্রদানকারীদের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী পন্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনার খাত নয়, এটি একটি অনিবার্য বাস্তবতা।’
অতীতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিনীতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। এর ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমদানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে পড়ে। এখনো দেশ ও জনগণ সেই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ইতোমধ্যে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। চলতি অর্থবছরেও একই পরিমাণ ভর্তুকির প্রয়োজন রয়েছে। সংকট মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লা সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি তেল কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আলাদাভাবে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট সমাধানই সরকারের অগ্রাধিকার
বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা না বাড়িয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাকেই সরকার প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অবগত। বিদ্যুতের চলমান সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণে সরকার একযোগে কাজ করছে।
বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যদের আহ্বান জানানোর আগেই তিনি নিজ বাসায় সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন করেছেন। প্রতিদিন তাঁর ব্যবহারের অতিরিক্ত কিছু ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে অর্থায়ন সহজ করার পাশাপাশি সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দাম কমাতে আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্রাহকদের যথাযথ সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৮ হাজারের বেশি সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ
কৃষি খাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সেচকাজের জন্য সরকার ভর্তুকিমূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পর্যায়ক্রমে সব সেচ পাম্প সৌরবিদ্যুৎচালিত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বরেন্দ্র এলাকায় এ কার্যক্রমের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ১৭ হাজার সেচ পাম্পকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়া দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের পাশাপাশি অপ্রয়োজনে ফ্যান, লাইট ও বিভিন্ন গ্যাজেট বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বড় প্রকল্পের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এ সময় বক্তব্য দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মিরানা মাহরুখ।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট নতুন সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ও সম্প্রসারণে নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতের আয় বাড়াই’।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।
সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, নেট মিটারিং ব্যবস্থায় স্থাপিত সোলার সিস্টেম থেকে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হলে বিশেষ প্রণোদনার আওতায় ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তা কিনবে সরকার।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
দেশের সম্পদে সূর্যের আলোকে রূপান্তরিত করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ‘ইনোভেটিভ আইডিয়া’ উপস্থাপন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তারেক রহমান। তিনি জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ৩০০ মেধাবী তরুণ-তরুণী তাঁদের উদ্ভাবনী ধারণা জমা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার এমন প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী ধারণা যেন অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপগুলোর জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সোলার এক্সপো-২০২৬-এর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ খাতে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও অর্থের সংস্থান করা হবে।
কুইক রেন্টালের পরিবর্তে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এক্সপোতে সারা দেশের উদ্যোক্তা ও সেবা প্রদানকারীদের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে, কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী পন্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনার খাত নয়, এটি একটি অনিবার্য বাস্তবতা।’
অতীতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিনীতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। এর ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমদানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে পড়ে। এখনো দেশ ও জনগণ সেই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ইতোমধ্যে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। চলতি অর্থবছরেও একই পরিমাণ ভর্তুকির প্রয়োজন রয়েছে। সংকট মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লা সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি তেল কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আলাদাভাবে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট সমাধানই সরকারের অগ্রাধিকার
বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা না বাড়িয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাকেই সরকার প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অবগত। বিদ্যুতের চলমান সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণে সরকার একযোগে কাজ করছে।
বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যদের আহ্বান জানানোর আগেই তিনি নিজ বাসায় সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন করেছেন। প্রতিদিন তাঁর ব্যবহারের অতিরিক্ত কিছু ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে অর্থায়ন সহজ করার পাশাপাশি সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দাম কমাতে আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্রাহকদের যথাযথ সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৮ হাজারের বেশি সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ
কৃষি খাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সেচকাজের জন্য সরকার ভর্তুকিমূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পর্যায়ক্রমে সব সেচ পাম্প সৌরবিদ্যুৎচালিত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বরেন্দ্র এলাকায় এ কার্যক্রমের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ১৭ হাজার সেচ পাম্পকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়া দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের পাশাপাশি অপ্রয়োজনে ফ্যান, লাইট ও বিভিন্ন গ্যাজেট বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বড় প্রকল্পের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এ সময় বক্তব্য দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মিরানা মাহরুখ।

মতামত