সাতক্ষীরায় বিচার বিভাগের নানা জটিলতা নিরসন করে গতিশীলতা ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টায় জেলা জজ আদালতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় মন্ত্রী জানান, স্থানীয় আদালত কেন্দ্রিক যেসব সংকটের কথা তিনি শুনেছেন, সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান করেই সামনে এগোবে সরকার। এরপর মন্ত্রী সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরা সফরে এসে রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন মো: আসাদুজ্জামান। জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জেলা প্রশাসনের বিশেষ সমন্বয় সভায় স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নেতা যদি এ পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাকেও বিবেচনায় নেয়া হবে না। নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এলাকায় অশান্তি তৈরি করছিলেন। তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রশাসনের পদক্ষেপে ওই নেতার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি বিভাগ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় পোস্টিং পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়। এ কারণে প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি চালু হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যেসব অনিয়ম রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে কয়েকজন বিচারপতি অর্থনৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত না হলেও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সরকার এখন সেটি মেরামতের কাজ করছে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের সংস্কার ও মেরামতের কাজে কিছুটা সময় লাগবে। এজন্য তিনি সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রত্যাশা করেন। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিশোধের রাজনীতিতে না গিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদেরও প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-১,২,৩,৪ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা সাংসদ বিথীকা বিনতে হোসেন, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, বিজিবি ও র্যাবের অধিনায়ক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলের নেতারা। দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ ভাগে বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন আইনমন্ত্রী।

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাতক্ষীরায় বিচার বিভাগের নানা জটিলতা নিরসন করে গতিশীলতা ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টায় জেলা জজ আদালতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় মন্ত্রী জানান, স্থানীয় আদালত কেন্দ্রিক যেসব সংকটের কথা তিনি শুনেছেন, সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান করেই সামনে এগোবে সরকার। এরপর মন্ত্রী সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরা সফরে এসে রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন মো: আসাদুজ্জামান। জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জেলা প্রশাসনের বিশেষ সমন্বয় সভায় স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নেতা যদি এ পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাকেও বিবেচনায় নেয়া হবে না। নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এলাকায় অশান্তি তৈরি করছিলেন। তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রশাসনের পদক্ষেপে ওই নেতার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি বিভাগ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় পোস্টিং পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়। এ কারণে প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি চালু হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যেসব অনিয়ম রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংকট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে কয়েকজন বিচারপতি অর্থনৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত না হলেও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সরকার এখন সেটি মেরামতের কাজ করছে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের সংস্কার ও মেরামতের কাজে কিছুটা সময় লাগবে। এজন্য তিনি সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রত্যাশা করেন। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিশোধের রাজনীতিতে না গিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদেরও প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-১,২,৩,৪ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা সাংসদ বিথীকা বিনতে হোসেন, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, বিজিবি ও র্যাবের অধিনায়ক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলের নেতারা। দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ ভাগে বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন আইনমন্ত্রী।

মতামত