দৈনিক সমাবেশ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিবি (ওয়ারী) বিভাগের অভিযানে ‘হানি-ট্র্যাপ’ চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার পাঁচজন

ডিবি (ওয়ারী) বিভাগের অভিযানে ‘হানি-ট্র্যাপ’ চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার পাঁচজন

রাজধানীতে বিশেষ কায়দায় মোটরসাইকেল চুরি, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীতে বিশেষ কায়দায় মোটরসাইকেল চুরি, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

টুথপিক-স্টেইনলেস স্টিলের আড়ালে প্রসাধনী ও পার্টস আমদানি: সিআইসির অভিযানে কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি উন্মোচিত

টুথপিক-স্টেইনলেস স্টিলের আড়ালে প্রসাধনী ও পার্টস আমদানি: সিআইসির অভিযানে কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি উন্মোচিত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার ধারাবাহিক সাফল্য

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার ধারাবাহিক সাফল্য

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একদিনেই ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ ও আইফোন আটক, আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একদিনেই ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ ও আইফোন আটক, আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা

তরুনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ২নং আসামি নাগ রাসেল (২০)'কে আটক করেছে এসআরবি-২

তরুনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ২নং আসামি নাগ রাসেল (২০)'কে আটক করেছে এসআরবি-২

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডায়মন্ড, প্লাটিনাম, রুবি ও স্বর্ণ অলংকার আটক

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডায়মন্ড, প্লাটিনাম, রুবি ও স্বর্ণ অলংকার আটক

কেএনএফ -এর প্রধান নাথান বমসহ ০৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের অভিযোগে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা

কেএনএফ -এর প্রধান নাথান বমসহ ০৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের অভিযোগে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা

ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, ‘NAARC চেয়ারম্যান’ আরিফুর রহমান রিপন গ্রেপ্তার

ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, ‘NAARC চেয়ারম্যান’ আরিফুর রহমান রিপন গ্রেপ্তার

৫ হাজার ৬৬৩টি বিদ্যালয়ে COVID-19 সামগ্রী সরবরাহের কথিত কার্যাদেশ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে আরিফুর রহমান রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID)। তিনি নিজেকে কথিত Nutrition and Autism Research Centre (NAARC)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রিপন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবি করতেন যে Public Procurement Act, 2006 (PPA 2006) এবং Public Procurement Rules, 2008-এর আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর/বোর্ডের একটি প্রকল্প তিনি পেয়েছেন। কথিত প্রকল্পটির নাম ছিল “CSSR Project – COVID-19”। এর স্মারক নম্বর হিসেবে 38.01.0000.700.14.25.020.2021 এবং ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ উল্লেখ করা হতো।

রিপনের বক্তব্য ছিল, ওই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৫,৬৬৩টি বিদ্যালয়ে COVID-19-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের কার্যাদেশ তিনি পেয়েছেন। এ দাবির পক্ষে বিভিন্ন কাগজপত্র ও তথ্য উপস্থাপন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যক্তি, কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তবে পরবর্তী সময়ে CID-এর তদন্তে কথিত প্রকল্পের অস্তিত্ব এবং কার্যাদেশের তথ্য নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, প্রকল্পটি পাওয়ার দাবির সমর্থনে ব্যবহৃত নথিগুলোর মধ্যে ভুয়া বা জাল নথি তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প পাওয়ার কথা বলে বিশ্বাসযোগ্যতার পরিবেশ তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত প্রতারণার অংশ কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

রিপনের YouTube ও Facebook-সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব মাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিষয়ও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি এখনও সক্রিয় ছিলেন কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্ভাব্য চক্রের সম্পৃক্ততা অনুসন্ধানের দাবি

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, বিষয়টি শুধু অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কথিত প্রকল্পের নামে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত ছিল কি না, ভুয়া নথি তৈরির পেছনে কারা রয়েছে এবং সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ও কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে রিপনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং কথিত প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানের দাবিও উঠেছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, আরিফুর রহমান রিপনকে ঘিরে থাকা সম্ভাব্য সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের পরিধি শনাক্ত করা গেলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তবে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আরিফুর রহমান রিপনকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত/আসামি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর বক্তব্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, ‘NAARC চেয়ারম্যান’ আরিফুর রহমান রিপন গ্রেপ্তার
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক সমাবেশ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ, ‘NAARC চেয়ারম্যান’ আরিফুর রহমান রিপন গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

৫ হাজার ৬৬৩টি বিদ্যালয়ে COVID-19 সামগ্রী সরবরাহের কথিত কার্যাদেশ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে আরিফুর রহমান রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID)। তিনি নিজেকে কথিত Nutrition and Autism Research Centre (NAARC)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রিপন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবি করতেন যে Public Procurement Act, 2006 (PPA 2006) এবং Public Procurement Rules, 2008-এর আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর/বোর্ডের একটি প্রকল্প তিনি পেয়েছেন। কথিত প্রকল্পটির নাম ছিল “CSSR Project – COVID-19”। এর স্মারক নম্বর হিসেবে 38.01.0000.700.14.25.020.2021 এবং ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ উল্লেখ করা হতো।

রিপনের বক্তব্য ছিল, ওই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৫,৬৬৩টি বিদ্যালয়ে COVID-19-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের কার্যাদেশ তিনি পেয়েছেন। এ দাবির পক্ষে বিভিন্ন কাগজপত্র ও তথ্য উপস্থাপন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যক্তি, কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তবে পরবর্তী সময়ে CID-এর তদন্তে কথিত প্রকল্পের অস্তিত্ব এবং কার্যাদেশের তথ্য নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, প্রকল্পটি পাওয়ার দাবির সমর্থনে ব্যবহৃত নথিগুলোর মধ্যে ভুয়া বা জাল নথি তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প পাওয়ার কথা বলে বিশ্বাসযোগ্যতার পরিবেশ তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত প্রতারণার অংশ কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

রিপনের YouTube ও Facebook-সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব মাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিষয়ও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি এখনও সক্রিয় ছিলেন কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্ভাব্য চক্রের সম্পৃক্ততা অনুসন্ধানের দাবি

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, বিষয়টি শুধু অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কথিত প্রকল্পের নামে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত ছিল কি না, ভুয়া নথি তৈরির পেছনে কারা রয়েছে এবং সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ও কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে রিপনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং কথিত প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানের দাবিও উঠেছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, আরিফুর রহমান রিপনকে ঘিরে থাকা সম্ভাব্য সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের পরিধি শনাক্ত করা গেলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

তবে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আরিফুর রহমান রিপনকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত/আসামি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর বক্তব্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।


দৈনিক সমাবেশ

প্রকাশকঃ মো: রবিউল ইসলাম ।
সম্পাদকঃ নিজামুল হক ।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: 2/2-c পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ই-মেইল: dainiksomabesh@gmail.com
টেলিফোনঃ 02226638261 মোবাইলঃ +880 1408-350003
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সমাবেশ