৫ হাজার ৬৬৩টি বিদ্যালয়ে COVID-19 সামগ্রী সরবরাহের কথিত কার্যাদেশ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে আরিফুর রহমান রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID)। তিনি নিজেকে কথিত Nutrition and Autism Research Centre (NAARC)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানা গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রিপন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবি করতেন যে Public Procurement Act, 2006 (PPA 2006) এবং Public Procurement Rules, 2008-এর আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর/বোর্ডের একটি প্রকল্প তিনি পেয়েছেন। কথিত প্রকল্পটির নাম ছিল “CSSR Project – COVID-19”। এর স্মারক নম্বর হিসেবে 38.01.0000.700.14.25.020.2021 এবং ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ উল্লেখ করা হতো।
রিপনের বক্তব্য ছিল, ওই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৫,৬৬৩টি বিদ্যালয়ে COVID-19-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের কার্যাদেশ তিনি পেয়েছেন। এ দাবির পক্ষে বিভিন্ন কাগজপত্র ও তথ্য উপস্থাপন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যক্তি, কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে পরবর্তী সময়ে CID-এর তদন্তে কথিত প্রকল্পের অস্তিত্ব এবং কার্যাদেশের তথ্য নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, প্রকল্পটি পাওয়ার দাবির সমর্থনে ব্যবহৃত নথিগুলোর মধ্যে ভুয়া বা জাল নথি তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প পাওয়ার কথা বলে বিশ্বাসযোগ্যতার পরিবেশ তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত প্রতারণার অংশ কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
রিপনের YouTube ও Facebook-সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব মাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিষয়ও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি এখনও সক্রিয় ছিলেন কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্ভাব্য চক্রের সম্পৃক্ততা অনুসন্ধানের দাবি
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, বিষয়টি শুধু অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কথিত প্রকল্পের নামে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত ছিল কি না, ভুয়া নথি তৈরির পেছনে কারা রয়েছে এবং সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ও কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে রিপনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং কথিত প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানের দাবিও উঠেছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, আরিফুর রহমান রিপনকে ঘিরে থাকা সম্ভাব্য সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের পরিধি শনাক্ত করা গেলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তবে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আরিফুর রহমান রিপনকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত/আসামি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর বক্তব্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ হাজার ৬৬৩টি বিদ্যালয়ে COVID-19 সামগ্রী সরবরাহের কথিত কার্যাদেশ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে আরিফুর রহমান রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (CID)। তিনি নিজেকে কথিত Nutrition and Autism Research Centre (NAARC)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানা গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রিপন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবি করতেন যে Public Procurement Act, 2006 (PPA 2006) এবং Public Procurement Rules, 2008-এর আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর/বোর্ডের একটি প্রকল্প তিনি পেয়েছেন। কথিত প্রকল্পটির নাম ছিল “CSSR Project – COVID-19”। এর স্মারক নম্বর হিসেবে 38.01.0000.700.14.25.020.2021 এবং ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ উল্লেখ করা হতো।
রিপনের বক্তব্য ছিল, ওই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৫,৬৬৩টি বিদ্যালয়ে COVID-19-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহের কার্যাদেশ তিনি পেয়েছেন। এ দাবির পক্ষে বিভিন্ন কাগজপত্র ও তথ্য উপস্থাপন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যক্তি, কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে পরবর্তী সময়ে CID-এর তদন্তে কথিত প্রকল্পের অস্তিত্ব এবং কার্যাদেশের তথ্য নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, প্রকল্পটি পাওয়ার দাবির সমর্থনে ব্যবহৃত নথিগুলোর মধ্যে ভুয়া বা জাল নথি তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প পাওয়ার কথা বলে বিশ্বাসযোগ্যতার পরিবেশ তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত প্রতারণার অংশ কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
রিপনের YouTube ও Facebook-সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব মাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিষয়ও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি এখনও সক্রিয় ছিলেন কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্ভাব্য চক্রের সম্পৃক্ততা অনুসন্ধানের দাবি
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, বিষয়টি শুধু অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কথিত প্রকল্পের নামে অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত ছিল কি না, ভুয়া নথি তৈরির পেছনে কারা রয়েছে এবং সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ও কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে রিপনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং কথিত প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানের দাবিও উঠেছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, আরিফুর রহমান রিপনকে ঘিরে থাকা সম্ভাব্য সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের পরিধি শনাক্ত করা গেলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তবে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আরিফুর রহমান রিপনকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত/আসামি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর বক্তব্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

মতামত