দৈনিক সমাবেশ
আপডেট : সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

উত্তর সাইপ্রাসে যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে নিহত ৮, নিখোঁজ ১৫

উত্তর সাইপ্রাসে যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে নিহত ৮, নিখোঁজ ১৫

ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের উত্তরাঞ্চলে কাইরেনিয়া বন্দরের কাছে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ফেরিটিতে মোট ২৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। নিহত ও নিখোঁজদের বাদে ২৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ফেরিটি কী কারণে ডুবে যায়, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, জাহাজটি অস্বাভাবিকভাবে চলছিল। পানির ওপর শেষবার প্রচণ্ড ধাক্কা লাগার সময় দুই-মাস্তুলযুক্ত জাহাজটির সামনের অংশ ভেঙে যায় এবং সেখান দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। ফেরিটিতে আটজন নাবিকও ছিলেন।

পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় অবকাশযাপন কেন্দ্র কাইরেনিয়ার উপকূলের কাছেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তুরস্কের সঙ্গে উত্তর সাইপ্রাসকে সরাসরি যুক্ত করা কয়েকটি শাটল সামুদ্রিক পরিষেবার একটি ছিল এই ফেরি।

১৯৭৪ সালে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাইপ্রাস উত্তর ও দক্ষিণ—দুই ভাগে বিভক্ত হয়। দক্ষিণ সাইপ্রাস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। অন্যদিকে, পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর সাইপ্রাসকে তুরস্ক ছাড়া আর কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। এ কারণে অঞ্চলটি তুর্কি সাইপ্রাস নামেও পরিচিত।

দুর্ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরও কাইরেনিয়ার একটি স্থানীয় হাসপাতাল ও বন্দরের প্রবেশপথের বাইরে স্বজনদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তুর্কি সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট তুফান এরহুরমান এ ঘটনায় ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ভিডিও ফুটেজে উল্টে যাওয়া জাহাজটির ওপর লাল লাইফ জ্যাকেট পরা কয়েকজনকে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের তীরে আনতে কোস্টগার্ড ও ব্যক্তিগত নৌযানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছিল।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এফে মাল্টিচি সিএনএন তুর্ককে বলেন, “জাহাজটি খুব বাজেভাবে নড়ছিল। এটি ক্রমাগত পানি থেকে উপরে উঠছিল এবং সজোরে আবার নিচে আছড়ে পড়ছিল। এটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপছিল।”

তিনি আরও বলেন, “তিন-চার মিনিট পর, ফেরিটি শূন্যে অনেক উঁচুতে লাফিয়ে উঠল, তারপর সশব্দে আছড়ে পড়ল। আমরা দেখলাম, সামনের বাম দিকটা ফেটে গেল এবং পানি ঢুকতে শুরু করল”।

তুর্কি সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটির ক্যাপ্টেন ও সাত নাবিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

রোববার বিকেলের মধ্যেই জাহাজটি পুরোপুরি ডুবে যায়। বর্তমানে এটি সাগরের ৫১৪ মিটার বা ১ হাজার ৬৮৬ ফুট গভীরে রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তুরস্কের ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংকট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এরহুরমান বলেন, "অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে। নিখোঁজদের উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

সূত্র: রয়টার্স

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

উত্তর সাইপ্রাসে যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে নিহত ৮, নিখোঁজ ১৫
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক সমাবেশ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


উত্তর সাইপ্রাসে যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে নিহত ৮, নিখোঁজ ১৫

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের উত্তরাঞ্চলে কাইরেনিয়া বন্দরের কাছে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ফেরিটিতে মোট ২৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। নিহত ও নিখোঁজদের বাদে ২৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ফেরিটি কী কারণে ডুবে যায়, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, জাহাজটি অস্বাভাবিকভাবে চলছিল। পানির ওপর শেষবার প্রচণ্ড ধাক্কা লাগার সময় দুই-মাস্তুলযুক্ত জাহাজটির সামনের অংশ ভেঙে যায় এবং সেখান দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। ফেরিটিতে আটজন নাবিকও ছিলেন।

পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় অবকাশযাপন কেন্দ্র কাইরেনিয়ার উপকূলের কাছেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তুরস্কের সঙ্গে উত্তর সাইপ্রাসকে সরাসরি যুক্ত করা কয়েকটি শাটল সামুদ্রিক পরিষেবার একটি ছিল এই ফেরি।

১৯৭৪ সালে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাইপ্রাস উত্তর ও দক্ষিণ—দুই ভাগে বিভক্ত হয়। দক্ষিণ সাইপ্রাস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। অন্যদিকে, পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর সাইপ্রাসকে তুরস্ক ছাড়া আর কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। এ কারণে অঞ্চলটি তুর্কি সাইপ্রাস নামেও পরিচিত।

দুর্ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরও কাইরেনিয়ার একটি স্থানীয় হাসপাতাল ও বন্দরের প্রবেশপথের বাইরে স্বজনদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তুর্কি সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট তুফান এরহুরমান এ ঘটনায় ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ভিডিও ফুটেজে উল্টে যাওয়া জাহাজটির ওপর লাল লাইফ জ্যাকেট পরা কয়েকজনকে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের তীরে আনতে কোস্টগার্ড ও ব্যক্তিগত নৌযানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছিল।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এফে মাল্টিচি সিএনএন তুর্ককে বলেন, “জাহাজটি খুব বাজেভাবে নড়ছিল। এটি ক্রমাগত পানি থেকে উপরে উঠছিল এবং সজোরে আবার নিচে আছড়ে পড়ছিল। এটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপছিল।”

তিনি আরও বলেন, “তিন-চার মিনিট পর, ফেরিটি শূন্যে অনেক উঁচুতে লাফিয়ে উঠল, তারপর সশব্দে আছড়ে পড়ল। আমরা দেখলাম, সামনের বাম দিকটা ফেটে গেল এবং পানি ঢুকতে শুরু করল”।

তুর্কি সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটির ক্যাপ্টেন ও সাত নাবিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

রোববার বিকেলের মধ্যেই জাহাজটি পুরোপুরি ডুবে যায়। বর্তমানে এটি সাগরের ৫১৪ মিটার বা ১ হাজার ৬৮৬ ফুট গভীরে রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তুরস্কের ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংকট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এরহুরমান বলেন, "অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে। নিখোঁজদের উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

সূত্র: রয়টার্স


দৈনিক সমাবেশ

প্রকাশকঃ মো: রবিউল ইসলাম ।
সম্পাদকঃ নিজামুল হক ।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: 2/2-c পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ই-মেইল: dainiksomabesh@gmail.com
টেলিফোনঃ 02226638261 মোবাইলঃ +880 1408-350003
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সমাবেশ