সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সড়কে প্রাণহানি রোধে পারস্পরিক দায় চাপানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, সড়কে মানুষের প্রাণহানি বন্ধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা মন্ত্রণালয়ের একার নয়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার, পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নই। এখানে যারা আছি, সবারই দায়িত্ব হচ্ছে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা।’ এ লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা, নিয়মিত আলোচনা ও সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন সড়কে মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যা উদ্বেগজনক। তবে সব ধরনের যানবাহনের দুর্ঘটনা কিংবা সড়ক সংশ্লিষ্ট প্রাণহানির ঘটনাকে একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রতিটি ঘটনার ধরন, কারণ ও পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো ভ্যান উল্টে খাদে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ না করে ঘটনাটিকে কেবল পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করলে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।
বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যুর একটি জরিপভিত্তিক তথ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, এ ধরনের পরিসংখ্যানের উৎস, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা ও সম্পৃক্ততা যাচাই করা দরকার। নির্ভুল তথ্য ছাড়া সড়ক নিরাপত্তার প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিকে ভুল তথ্যের মধ্যে রেখেও যেমন সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, ঠিক একইভাবে প্রকৃত তথ্য না জানলেও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’ এ কারণে দুর্ঘটনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
সড়কে প্রাণহানি কমাতে সরকারের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, কোন পদক্ষেপ নিলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কার্যকর সুপারিশ দিলে সরকার তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমানোই সরকারের লক্ষ্য।
চালকদের দক্ষতা ও আচরণ এবং যানবাহনের ফিটনেসের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের সচেতনতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহনের উপযুক্ত ফিটনেস বজায় রাখা জরুরি। তবে শুধু চালকদের দায়ী করা কিংবা যানবাহনের ত্রুটিকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখলে সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান হবে না। দুর্ঘটনার পেছনে থাকা বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদে যানবাহন চালানোর জন্য দক্ষ ও যোগ্য চালক প্রয়োজন। তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেস ও নিরাপদ পরিচালনার ক্ষেত্রে মালিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
পরিবহন খাতে পরিবর্তনের প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, এ খাতের সঙ্গে যুক্ত অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সংগঠন পরিবর্তন চান। তাঁরাও অনিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার কারণে সড়কে মানুষের প্রাণহানি চান না। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন আনা সম্ভব না হলেও নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেকোনো মূল্যে করতে চাই।’ এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ, পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন চলছে। সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলে এসব উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নের কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিস্তার নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে যান চলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তবে অটোরিকশার চলাচল নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নাগরিকদের নিজেদের আচরণ নিয়েও ভাবার আহ্বান জানান তিনি। এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ে সমালোচনা করলেও মানুষ নিজেরা সেগুলো ব্যবহার বন্ধ করেছেন কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় চালক, মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আচরণে দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন থাকতে হবে। সড়ক ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলা, যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, শ্রম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিবহন নেতা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানসহ সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সড়কে প্রাণহানি রোধে পারস্পরিক দায় চাপানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, সড়কে মানুষের প্রাণহানি বন্ধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা মন্ত্রণালয়ের একার নয়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার, পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নই। এখানে যারা আছি, সবারই দায়িত্ব হচ্ছে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা।’ এ লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা, নিয়মিত আলোচনা ও সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন সড়কে মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যা উদ্বেগজনক। তবে সব ধরনের যানবাহনের দুর্ঘটনা কিংবা সড়ক সংশ্লিষ্ট প্রাণহানির ঘটনাকে একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রতিটি ঘটনার ধরন, কারণ ও পরিস্থিতি যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো ভ্যান উল্টে খাদে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ না করে ঘটনাটিকে কেবল পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করলে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।
বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যুর একটি জরিপভিত্তিক তথ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, এ ধরনের পরিসংখ্যানের উৎস, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা ও সম্পৃক্ততা যাচাই করা দরকার। নির্ভুল তথ্য ছাড়া সড়ক নিরাপত্তার প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিকে ভুল তথ্যের মধ্যে রেখেও যেমন সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, ঠিক একইভাবে প্রকৃত তথ্য না জানলেও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’ এ কারণে দুর্ঘটনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
সড়কে প্রাণহানি কমাতে সরকারের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, কোন পদক্ষেপ নিলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কার্যকর সুপারিশ দিলে সরকার তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমানোই সরকারের লক্ষ্য।
চালকদের দক্ষতা ও আচরণ এবং যানবাহনের ফিটনেসের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের সচেতনতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহনের উপযুক্ত ফিটনেস বজায় রাখা জরুরি। তবে শুধু চালকদের দায়ী করা কিংবা যানবাহনের ত্রুটিকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখলে সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান হবে না। দুর্ঘটনার পেছনে থাকা বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদে যানবাহন চালানোর জন্য দক্ষ ও যোগ্য চালক প্রয়োজন। তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেস ও নিরাপদ পরিচালনার ক্ষেত্রে মালিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
পরিবহন খাতে পরিবর্তনের প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, এ খাতের সঙ্গে যুক্ত অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সংগঠন পরিবর্তন চান। তাঁরাও অনিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার কারণে সড়কে মানুষের প্রাণহানি চান না। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন আনা সম্ভব না হলেও নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেকোনো মূল্যে করতে চাই।’ এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ, পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন চলছে। সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলে এসব উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নের কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিস্তার নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে যান চলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তবে অটোরিকশার চলাচল নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নাগরিকদের নিজেদের আচরণ নিয়েও ভাবার আহ্বান জানান তিনি। এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ে সমালোচনা করলেও মানুষ নিজেরা সেগুলো ব্যবহার বন্ধ করেছেন কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় চালক, মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আচরণে দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন থাকতে হবে। সড়ক ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলা, যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, শ্রম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিবহন নেতা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানসহ সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত