জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানেরও উদ্বোধন করেন। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা এবং ওয়াসিম আকরামের বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি উদ্যান প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। উদ্যানে স্থাপিত গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন,
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খানসহ আমন্ত্রিত সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বর্গ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিগণ এবং সরকারের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুলাই শহীদদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ে যাঁরা শহীদ হয়েছেন এবং ১৯৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, উভয়ের লক্ষ্য ছিল এক।
তিনি বলেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা, কথা বলার স্বাধীনতা, সুশিক্ষা, চিকিৎসাসুবিধা, কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে প্রায় ৮৩৪ জন শহীদ জুলাই যোদ্ধার নাম সংরক্ষিত আছে। এই স্মৃতিস্তম্ভ সব সময় আমাদের মনে করিয়ে দেবে, যাঁরা বেঁচে আছি, দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী।
ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্যানটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি সংস্কার করা হয়েছে এবং জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
তবে উদ্যানের আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে স্থাপত্য নির্মাণের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব প্রকৃতির ক্ষতি কমিয়ে কাজ করতে হবে। মানুষের ও দেশের প্রয়োজনে স্থাপনা নির্মাণ করতে হলেও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। দিন শেষে তা মানুষেরই উপকারে আসবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, লাইব্রেরি ও বাগানসহ পুরো স্থাপনাটি জনগণের ও রাষ্ট্রের সম্পদ। দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকেরও এটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখার দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে পরিবেশ নষ্ট করা এবং ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত প্রায় দেড় মাস ধরে সরকার, বিএনসিসি, স্কাউট, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা এবং এর প্রকোপ কমিয়ে আনা, যাতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কম থাকে।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এডিস মশা সরকারি দল, বিরোধী দল কিংবা নিরপেক্ষ মানুষ—কাউকেই আলাদাভাবে চেনে না। এডিস মশা সবাইকে আক্রান্ত করতে পারে, তাই দেশের স্বার্থে এবং দেশের মানুষের স্বার্থে প্রত্যেককে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জুলাইয়ে আহত যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীর নাগরিক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ শহীদের নাম:
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।
এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
আধুনিকায়ন হলো ওসমানী উদ্যান:
রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় উদ্যানটিকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণ করে নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।
উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, গণশৌচাগার, পার্কিং ও জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটির সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথ রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে ডিএসসিসি কাজ করছে। এ লক্ষ্যে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে রিসোর্স সার্কুলেশন পার্কে রূপান্তর, থ্রি-আর (3R) নীতি বাস্তবায়নে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ চালু, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও নিজস্ব নার্সারি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জনগণের ক্ষমতায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গণশুনানি আয়োজনের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘ক্লিন কেয়ার ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকেরা মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ পালন এবং প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রাক্-বর্ষা ও বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আদি ঢাকাকেন্দ্রিক নগর পর্যটন জনপ্রিয় করতে ‘হৃদয়ে ঢাকা’ ও ‘দক্ষিণের জানালা’ শীর্ষক উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রশাসক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, যানজট, শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রায় দুই কোটি মানুষের এই নগরীকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলাই ডিএসসিসির লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নগরীর সামগ্রিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যক্তিগতভাবে নজরদারি করছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নবনির্মিত 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' এবং ওসমানী উদ্যান নাগরিকদের অন্যতম সমাগমস্থলে পরিণত হবে বলে কর্পোরেশন আশা প্রকাশ করছে।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানেরও উদ্বোধন করেন। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা এবং ওয়াসিম আকরামের বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি উদ্যান প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। উদ্যানে স্থাপিত গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন,
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খানসহ আমন্ত্রিত সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বর্গ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিগণ এবং সরকারের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুলাই শহীদদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ে যাঁরা শহীদ হয়েছেন এবং ১৯৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, উভয়ের লক্ষ্য ছিল এক।
তিনি বলেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা, কথা বলার স্বাধীনতা, সুশিক্ষা, চিকিৎসাসুবিধা, কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে প্রায় ৮৩৪ জন শহীদ জুলাই যোদ্ধার নাম সংরক্ষিত আছে। এই স্মৃতিস্তম্ভ সব সময় আমাদের মনে করিয়ে দেবে, যাঁরা বেঁচে আছি, দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী।
ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্যানটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি সংস্কার করা হয়েছে এবং জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
তবে উদ্যানের আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে স্থাপত্য নির্মাণের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব প্রকৃতির ক্ষতি কমিয়ে কাজ করতে হবে। মানুষের ও দেশের প্রয়োজনে স্থাপনা নির্মাণ করতে হলেও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। দিন শেষে তা মানুষেরই উপকারে আসবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, লাইব্রেরি ও বাগানসহ পুরো স্থাপনাটি জনগণের ও রাষ্ট্রের সম্পদ। দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকেরও এটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখার দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে পরিবেশ নষ্ট করা এবং ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত প্রায় দেড় মাস ধরে সরকার, বিএনসিসি, স্কাউট, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা এবং এর প্রকোপ কমিয়ে আনা, যাতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কম থাকে।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এডিস মশা সরকারি দল, বিরোধী দল কিংবা নিরপেক্ষ মানুষ—কাউকেই আলাদাভাবে চেনে না। এডিস মশা সবাইকে আক্রান্ত করতে পারে, তাই দেশের স্বার্থে এবং দেশের মানুষের স্বার্থে প্রত্যেককে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জুলাইয়ে আহত যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীর নাগরিক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ শহীদের নাম:
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।
এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
আধুনিকায়ন হলো ওসমানী উদ্যান:
রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় উদ্যানটিকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণ করে নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।
উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, গণশৌচাগার, পার্কিং ও জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটির সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথ রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে ডিএসসিসি কাজ করছে। এ লক্ষ্যে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে রিসোর্স সার্কুলেশন পার্কে রূপান্তর, থ্রি-আর (3R) নীতি বাস্তবায়নে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ চালু, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও নিজস্ব নার্সারি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জনগণের ক্ষমতায়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গণশুনানি আয়োজনের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘ক্লিন কেয়ার ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকেরা মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ পালন এবং প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রাক্-বর্ষা ও বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আদি ঢাকাকেন্দ্রিক নগর পর্যটন জনপ্রিয় করতে ‘হৃদয়ে ঢাকা’ ও ‘দক্ষিণের জানালা’ শীর্ষক উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রশাসক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, যানজট, শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রায় দুই কোটি মানুষের এই নগরীকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলাই ডিএসসিসির লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নগরীর সামগ্রিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যক্তিগতভাবে নজরদারি করছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নবনির্মিত 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' এবং ওসমানী উদ্যান নাগরিকদের অন্যতম সমাগমস্থলে পরিণত হবে বলে কর্পোরেশন আশা প্রকাশ করছে।

মতামত