দৈনিক সমাবেশ
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রবীণ সুরক্ষা সংস্থা (পিএসএস) সম্পর্কে

প্রবীণ সুরক্ষা সংস্থা (পিএসএস) সম্পর্কে

পটভূমি:

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষের আর্থিক উন্নয়নের সাথে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা অনুপাত বিশ্বব্যাপী ক্রমেই ঊর্ধ্বগামী। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৪৬। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ বছর। প্রবীণ মানুষের এরূপ সংখ্যাবৃদ্ধি সমাজে ও পরিবারে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার শিকার অসহায় প্রবীণ জনগোষ্ঠী। সমাজে সে যেমন অবহেলিত ও বঞ্চিত, নিজ পরিবারে এবং স্বজনদের কাছেও তাকে তেমনি অবহেলা ও নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে। প্রবীণ নারীদের অবস্থা আরো ভয়াবহ। পুরুষদের তুলনায় নারীদের গড় আয়ু বেশি ও আয়-উপার্জনের সুযোগ কম। সামাজিক কারণেই তাদের পক্ষে উত্তরাধিকার সম্পদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। তার ফলে পদে পদে তারা নিগৃহীত হয়ে থাকেন।

প্রবীণদের অসহায়ত্ব কমিয়ে এনে সমাজের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সম্মানজনক সদস্য হিসেবে তাদেরকে মূল স্রোতধারায় প্রতিষ্ঠিত করা আজ সময়ের দাবী। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৮% ৬০ বছরের উর্ধ্বে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এখানে প্রবীণদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সরকারি সেবা অপ্রতুল। ফলে সুচিকিৎসার অভাব ও নিজের উপার্জন কমে যাওয়া পারিবারিক নানা সমস্যা, দুঃচিন্তা ও মানসিক কষ্ট এমনকি পরিবারের অন্য সদস্যদের দ্বারা অবহেলিত হওয়া প্রবীণদেরকে ক্রমশ বিষন্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তখন তারা বেঁচে থেকেও মরে যাওয়ার সমতুল্য হয়ে উঠেন। সামাজিকভাবে প্রয়োজনীয় এবং সৃজনশীল কাজ করার যোগ্যতা ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা আজ উপেক্ষিত।

এসব সমস্যার কিছুটা সমাধান ও সমাজের প্রবীণদের নানামুখী কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা শহরের মিরপুর অঞ্চলের কতিপয় উৎসাহী প্রবীণের উদ্যোগে 'প্রবীণ সুরক্ষা সংস্থা' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়। সংস্থাটি সময়ের চাহিদা, দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মৌলিক অত্যাবশ্যকীয় চাহিদাসমূহ বিবেচনায় সময়ে সময়ে তার নীতি-আদর্শ সমুন্নত রেখে কাঙ্ক্ষিত তৎপরতা চলমান রাখতে সক্ষম হবে-এমনটাই সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

সাধারণ তথ্য:

ক) সংগঠনের পূর্ণ নামঃ প্রবীণ সুরক্ষা সংস্থা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

খ) প্রতিষ্ঠার তারিখঃ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ।

গ) প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতিঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদকঃ মোঃ এনামুল হক।

ঘ) সংগঠনের প্রকৃতিঃ অত্র সংগঠন একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক, বেসরকারি কর্মসূচিভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবামূলক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান।

ঙ) অফিসের ঠিকানাঃ বাড়ি নং ০২, পার্ল ভিউ (নিচতলা), রোড-৪, ব্লক-এফ, পল্লবী ২য় পর্ব, রূপনগর, ঢাকা-১২১৬।

চ) আইনগত ভিত্তি: স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধনীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬১ (রেজিঃ নং-২৩৯, ১৯৬২)-এর আওতায় পরিচালিত।

ছ) কার্যএলাকা পরিধি: সংস্থার বর্তমান কার্য এলাকা সমগ্র ঢাকা জেলা। ভবিষ্যতে নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এর কার্য এলাকা সমগ্র বাংলাদেশে সম্প্রসারণ করা যাবে।

লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ড:

ক) প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ, দারিদ্র্য ও দুঃচিন্তামুক্ত, নিরাপদ ও কর্মময় সামাজিক জীবন নিশ্চিত করা। নিজ নিজ মূল্যবান অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে জনকল্যাণে সম্পৃক্ত করা।

খ) প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সাচ্ছন্দ্যময় নিরাপদ জীবন-যাপন ও বিনোদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা এবং অতীত অভিজ্ঞতা কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করা।

গ) মৌলিক প্রাপ্যতাগুলিতে সহজ প্রবেশাধিকার সৃষ্টি এবং দেশের সরকার এবং সমাজের প্রভাবশালী বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই প্রবীণবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখা।

ঘ) কর্মকাণ্ড:

* পারস্পারিক সম্পর্ক বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার প্রচেষ্টা চালানো।

* বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি প্রবীণ উপযোগী সকল সুযোগ-সুবিধা প্রবীণদের জন্য নিশ্চিত করা।

* প্রবীণদের জন্য হাসপাতালে হ্রাসকৃত মূল্যে রোগ সনাক্তকরণ ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

* প্রথমেই ব্যক্তিগত বা সরকার থেকে সংস্থার অফিসের জন্য একখণ্ড জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।

* ঢাকায় প্রবীণদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত প্রবীণ নিবাস কাম হাসপাতাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা।

* প্রবীণদের প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন এবং প্রবীণদের সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা নেয়া।

* প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও উন্নয়নে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পোস্টার, পুস্তিকা, লিফলেট, সাময়িকী প্রকাশ করা ও কর্মশালার আয়োজন করা।

* প্রবীণদের নিয়ে জাতীয় দিবসসমূহ পালন করা এবং সে উদ্দেশ্যে সভা ও র‍্যালির আয়োজন করা।

* প্রবীণ বিষয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান সমূহের সাথে সহযোগিতামূলক সুসম্পর্ক গড়ে তুলে যৌথভাবে কাজ করা।

* সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার জন অনুদান ও আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

* পরিবারে প্রবীণদের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক আচরণ নিরসনকল্পে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

* গণপরিবহণে-তথা রেল, বাস, লঞ্চ, স্টিমারে প্রবীণদের জন্য পৃথক সিট ও কাউন্টার সংরক্ষণ ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিট প্রাপ্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা।

* জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, চিড়িয়াখানা, সাফারীপার্ক, জাদুঘরসহ বিনোদন কেন্দ্র ও ঐতিহাসিক স্থানসমূহে বিনামূল্যে প্রবীণদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

* সরকারি প্রণোদনায় প্রবীণদের জন্য সার্বজনীন প্রবীণ ভাতা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ।

সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা:

ক) কার্যনির্বাহী পরিষদ:

* সংগঠনের সাধারণ পরিষদ সদস্যদের দ্বারা প্রতি দুই বছরের জন্য নির্বাচিত একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ সাংগঠনিক পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করে থাকেন। একজন সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক এবং একজন কোষাধ্যক্ষসহ এই পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ১১ (এগারো) জন। বর্তমানে ২০২৫-২০২৬ মেয়াদে মনোনিত কার্যনির্বাহী পরিষদ দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।

খ) সাধারণ পরিষদ:

জীবন সদস্য এবং সাধারণ সদস্যদের নিয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত।

১) জীবন সদস্য সমগ্র ঢাকায় বসবাসকারী ৬০ বা তদূর্ধ্ব বয়সের যে কোন নারী-পুরুষ এককালীন ৫৫০০/-(পাঁচ হাজার পাঁচশত) টাকা ফি জমা নিয়ে আজীবন সদস্য হতে পারেন।

২) সাধারণ সদস্য: বৃহত্তর ঢাকায় বসবাসকারী ৬০ বা তদূর্ধ্ব বয়সী যে কোন নারী-পুরুষ বাৎসরিক নির্ধারিত ১৫০০/-(একহাজার পাঁচশত টাকা) ফি প্রদান করে সাধারণ সদস্য হতে পারবেন। তবে বৎসরান্তে তাঁকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে সদস্যপদ নবায়ন করতে হবে।

৩) দাতা সদস্য: ৫০,০০০/- টাকার নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ এককালীন প্রদান করে যে কোন নারী-পুরুষ দাতা সদস্য হতে পারেন।

চলমান কর্মসূচি ও কার্যক্রম:

বর্তমানে ভাড়াভিত্তিক কার্যালয়ে নির্বাহী কমিটির নিয়মিত সভা, বিভিন্ন আলোচনা, চিকিৎসাসেবা প্রদান, আন্তঃকক্ষ ক্রীড়া অনুশীলন, উন্নয়নমূলক কর্মসূচিসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ক) রাষ্ট্রীয় দিবসসমূহ উদযাপন:

প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতে সংঘের সদস্যদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণদিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও ১লা বৈশাখ উদযাপন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় দিবসসমূহ উদযাপনের সময় র‍্যালি, আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গান, কবিতা, আবৃত্তি, ইত্যাদি পরিবেশন করে প্রবীণদের অবদান তুলে ধরা হয়।

খ) প্রকাশনা:

মানুষের প্রতিভা, মন ও মননের বিকাশ ঘটে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায়। এই উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে অত্র শাখার সদস্যদের লেখা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস নিয়ে সদস্যদের নাম, ছবি, টেলিফোন নম্বরসহ সদস্যদের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ও আন্তরিকতা বৃদ্ধির একটি সেতুবন্ধন সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বার্ধক্যের প্রস্তুতি এবং প্রবীণ অধিকার বিষয়ে নাগরিকদের অবহিতকরণ, সচেতন ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে ফোল্ডার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, প্লাকার্ড, ব্যানার ইত্যাদি প্রকাশ ও প্রচারণার উদ্যোগ চলমান আছে।

গ) চিত্ত-বিনোদন কর্মকাণ্ড:

প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য সবল রাখতে বছর জুড়ে পুনর্মিলনী, বনভোজন, ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ইত্যাদির উদ্যোগ-আয়োজন রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন সকালে শাখার আগ্রহী সদস্যগণ জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে প্রাতঃভ্রমণ শেষে এক অনাবিল প্রবীণ আড্ডায় মিলিত হন এবং মানসিক প্রশান্তি নিয়ে দিনের যাত্রা শুরু করেন।

এছাড়া গল্প, উপন্যাস, ধর্মীয়, স্বাস্থ্য, ইতিহাস, দর্শন ইত্যাদি নানা ধরনের পুস্তক, জার্নাল, সাময়িকী, ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র ইত্যাদির একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে।

ঘ) ইফতার ও দোয়া মাহফিল:

প্রতি বছর রমজান মাসে প্রবীণদের নিয়ে দোয়া মাহফিল ও ইফতারের আয়োজন করা হয়।

ঙ) পারিবারিক কাউন্সিলিং:

শাখার কোন সদস্য বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতা বা পারিবারিক অশান্তির কারণে অসহায় বোধ করলে শাখার পক্ষ থেকে তাঁর বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়পূর্বক পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান ও সান্ত্বনা দেয়া হয়। পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী প্রবীণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্র সংঘ প্রবীণের সহযোগী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে।

চ) আন্তঃকক্ষ ক্রীড়া অনুশীলন:

চিত্ত-বিনোদন ও শরীর চর্চার জন্য বিকালে আঞ্চলিক অফিসে প্রবীণদের জন্য আন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ছ) প্রশিক্ষণ ও সামাজিক কর্মসূচি:

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনজিও এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আর্থিক সহায়তা পেলে 'প্রবীণস্বাস্থ্য ও কল্যাণ' শীর্ষক কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা নেয়া হবে। পাশাপাশি প্রবীণদের অবস্থা, সমস্যা এবং সেবাযত্নের ব্যাপারে গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রবীণদের স্বস্তিপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন জীবন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সমাবেশ, ক্যাম্পেইন, ইত্যাদির আয়োজন করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা:

১) প্রবীণ বান্ধব একটি সমৃদ্ধ প্রবীণ নিবাস কাম হাসপাতাল তথা একটি প্রবীণ কমপেক্স স্থাপন।

২) সরকার ঘেষিত প্রবীণ নীতিমালা-২০১৩ এবং পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩ এর পূর্ণ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ।

৩) প্রবীণবান্ধব রাষ্ট্রীয় সকল বিনোদন কেন্দ্র ও ঐতিহাসিক স্থানসমূহে বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করণে প্রচেষ্টা গ্রহণ।

৪) রেলওয়ে, বাস, স্টিমার ও লঞ্চে পৃথক সিট ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করণে পদক্ষেপ নেয়া।

৫) সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসমূহে সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাপত্র এবং আলাদা কাউন্টারের উদ্যোগ গ্রহণ।

৬) সমাজকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, বিশিষ্টজনদের সাথে নিয়ে সমাজে ও পরিবারে প্রবীণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারণা, সেমিনার, সমাবেশ, ক্যাম্পেইন ইত্যাদির আয়োজন করা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

প্রবীণ সুরক্ষা সংস্থা (পিএসএস) সম্পর্কে
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক সমাবেশ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রবীণ সুরক্ষা সংস্থা (পিএসএস) সম্পর্কে

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পটভূমি:

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষের আর্থিক উন্নয়নের সাথে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা অনুপাত বিশ্বব্যাপী ক্রমেই ঊর্ধ্বগামী। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৪৬। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ বছর। প্রবীণ মানুষের এরূপ সংখ্যাবৃদ্ধি সমাজে ও পরিবারে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার শিকার অসহায় প্রবীণ জনগোষ্ঠী। সমাজে সে যেমন অবহেলিত ও বঞ্চিত, নিজ পরিবারে এবং স্বজনদের কাছেও তাকে তেমনি অবহেলা ও নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে। প্রবীণ নারীদের অবস্থা আরো ভয়াবহ। পুরুষদের তুলনায় নারীদের গড় আয়ু বেশি ও আয়-উপার্জনের সুযোগ কম। সামাজিক কারণেই তাদের পক্ষে উত্তরাধিকার সম্পদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। তার ফলে পদে পদে তারা নিগৃহীত হয়ে থাকেন।

প্রবীণদের অসহায়ত্ব কমিয়ে এনে সমাজের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সম্মানজনক সদস্য হিসেবে তাদেরকে মূল স্রোতধারায় প্রতিষ্ঠিত করা আজ সময়ের দাবী। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৮% ৬০ বছরের উর্ধ্বে। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এখানে প্রবীণদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সরকারি সেবা অপ্রতুল। ফলে সুচিকিৎসার অভাব ও নিজের উপার্জন কমে যাওয়া পারিবারিক নানা সমস্যা, দুঃচিন্তা ও মানসিক কষ্ট এমনকি পরিবারের অন্য সদস্যদের দ্বারা অবহেলিত হওয়া প্রবীণদেরকে ক্রমশ বিষন্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তখন তারা বেঁচে থেকেও মরে যাওয়ার সমতুল্য হয়ে উঠেন। সামাজিকভাবে প্রয়োজনীয় এবং সৃজনশীল কাজ করার যোগ্যতা ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তারা আজ উপেক্ষিত।

এসব সমস্যার কিছুটা সমাধান ও সমাজের প্রবীণদের নানামুখী কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা শহরের মিরপুর অঞ্চলের কতিপয় উৎসাহী প্রবীণের উদ্যোগে 'প্রবীণ সুরক্ষা সংস্থা' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়। সংস্থাটি সময়ের চাহিদা, দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মৌলিক অত্যাবশ্যকীয় চাহিদাসমূহ বিবেচনায় সময়ে সময়ে তার নীতি-আদর্শ সমুন্নত রেখে কাঙ্ক্ষিত তৎপরতা চলমান রাখতে সক্ষম হবে-এমনটাই সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

সাধারণ তথ্য:

ক) সংগঠনের পূর্ণ নামঃ প্রবীণ সুরক্ষা সংস্থা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

খ) প্রতিষ্ঠার তারিখঃ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ।

গ) প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতিঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদকঃ মোঃ এনামুল হক।

ঘ) সংগঠনের প্রকৃতিঃ অত্র সংগঠন একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক, বেসরকারি কর্মসূচিভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবামূলক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান।

ঙ) অফিসের ঠিকানাঃ বাড়ি নং ০২, পার্ল ভিউ (নিচতলা), রোড-৪, ব্লক-এফ, পল্লবী ২য় পর্ব, রূপনগর, ঢাকা-১২১৬।

চ) আইনগত ভিত্তি: স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধনীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬১ (রেজিঃ নং-২৩৯, ১৯৬২)-এর আওতায় পরিচালিত।

ছ) কার্যএলাকা পরিধি: সংস্থার বর্তমান কার্য এলাকা সমগ্র ঢাকা জেলা। ভবিষ্যতে নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এর কার্য এলাকা সমগ্র বাংলাদেশে সম্প্রসারণ করা যাবে।

লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ড:

ক) প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ, দারিদ্র্য ও দুঃচিন্তামুক্ত, নিরাপদ ও কর্মময় সামাজিক জীবন নিশ্চিত করা। নিজ নিজ মূল্যবান অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে জনকল্যাণে সম্পৃক্ত করা।

খ) প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সাচ্ছন্দ্যময় নিরাপদ জীবন-যাপন ও বিনোদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা এবং অতীত অভিজ্ঞতা কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করা।

গ) মৌলিক প্রাপ্যতাগুলিতে সহজ প্রবেশাধিকার সৃষ্টি এবং দেশের সরকার এবং সমাজের প্রভাবশালী বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের সহযোগিতার মাধ্যমে টেকসই প্রবীণবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখা।

ঘ) কর্মকাণ্ড:

* পারস্পারিক সম্পর্ক বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার প্রচেষ্টা চালানো।

* বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি প্রবীণ উপযোগী সকল সুযোগ-সুবিধা প্রবীণদের জন্য নিশ্চিত করা।

* প্রবীণদের জন্য হাসপাতালে হ্রাসকৃত মূল্যে রোগ সনাক্তকরণ ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

* প্রথমেই ব্যক্তিগত বা সরকার থেকে সংস্থার অফিসের জন্য একখণ্ড জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।

* ঢাকায় প্রবীণদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত প্রবীণ নিবাস কাম হাসপাতাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা।

* প্রবীণদের প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন এবং প্রবীণদের সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা নেয়া।

* প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও উন্নয়নে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পোস্টার, পুস্তিকা, লিফলেট, সাময়িকী প্রকাশ করা ও কর্মশালার আয়োজন করা।

* প্রবীণদের নিয়ে জাতীয় দিবসসমূহ পালন করা এবং সে উদ্দেশ্যে সভা ও র‍্যালির আয়োজন করা।

* প্রবীণ বিষয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান সমূহের সাথে সহযোগিতামূলক সুসম্পর্ক গড়ে তুলে যৌথভাবে কাজ করা।

* সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার জন অনুদান ও আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

* পরিবারে প্রবীণদের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক আচরণ নিরসনকল্পে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

* গণপরিবহণে-তথা রেল, বাস, লঞ্চ, স্টিমারে প্রবীণদের জন্য পৃথক সিট ও কাউন্টার সংরক্ষণ ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিট প্রাপ্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা।

* জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, চিড়িয়াখানা, সাফারীপার্ক, জাদুঘরসহ বিনোদন কেন্দ্র ও ঐতিহাসিক স্থানসমূহে বিনামূল্যে প্রবীণদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

* সরকারি প্রণোদনায় প্রবীণদের জন্য সার্বজনীন প্রবীণ ভাতা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ।

সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা:

ক) কার্যনির্বাহী পরিষদ:

* সংগঠনের সাধারণ পরিষদ সদস্যদের দ্বারা প্রতি দুই বছরের জন্য নির্বাচিত একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ সাংগঠনিক পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করে থাকেন। একজন সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক এবং একজন কোষাধ্যক্ষসহ এই পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ১১ (এগারো) জন। বর্তমানে ২০২৫-২০২৬ মেয়াদে মনোনিত কার্যনির্বাহী পরিষদ দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।

খ) সাধারণ পরিষদ:

জীবন সদস্য এবং সাধারণ সদস্যদের নিয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত।

১) জীবন সদস্য সমগ্র ঢাকায় বসবাসকারী ৬০ বা তদূর্ধ্ব বয়সের যে কোন নারী-পুরুষ এককালীন ৫৫০০/-(পাঁচ হাজার পাঁচশত) টাকা ফি জমা নিয়ে আজীবন সদস্য হতে পারেন।

২) সাধারণ সদস্য: বৃহত্তর ঢাকায় বসবাসকারী ৬০ বা তদূর্ধ্ব বয়সী যে কোন নারী-পুরুষ বাৎসরিক নির্ধারিত ১৫০০/-(একহাজার পাঁচশত টাকা) ফি প্রদান করে সাধারণ সদস্য হতে পারবেন। তবে বৎসরান্তে তাঁকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে সদস্যপদ নবায়ন করতে হবে।

৩) দাতা সদস্য: ৫০,০০০/- টাকার নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ এককালীন প্রদান করে যে কোন নারী-পুরুষ দাতা সদস্য হতে পারেন।

চলমান কর্মসূচি ও কার্যক্রম:

বর্তমানে ভাড়াভিত্তিক কার্যালয়ে নির্বাহী কমিটির নিয়মিত সভা, বিভিন্ন আলোচনা, চিকিৎসাসেবা প্রদান, আন্তঃকক্ষ ক্রীড়া অনুশীলন, উন্নয়নমূলক কর্মসূচিসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ক) রাষ্ট্রীয় দিবসসমূহ উদযাপন:

প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতে সংঘের সদস্যদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণদিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও ১লা বৈশাখ উদযাপন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় দিবসসমূহ উদযাপনের সময় র‍্যালি, আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গান, কবিতা, আবৃত্তি, ইত্যাদি পরিবেশন করে প্রবীণদের অবদান তুলে ধরা হয়।

খ) প্রকাশনা:

মানুষের প্রতিভা, মন ও মননের বিকাশ ঘটে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায়। এই উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে অত্র শাখার সদস্যদের লেখা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস নিয়ে সদস্যদের নাম, ছবি, টেলিফোন নম্বরসহ সদস্যদের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ও আন্তরিকতা বৃদ্ধির একটি সেতুবন্ধন সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বার্ধক্যের প্রস্তুতি এবং প্রবীণ অধিকার বিষয়ে নাগরিকদের অবহিতকরণ, সচেতন ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে ফোল্ডার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, প্লাকার্ড, ব্যানার ইত্যাদি প্রকাশ ও প্রচারণার উদ্যোগ চলমান আছে।

গ) চিত্ত-বিনোদন কর্মকাণ্ড:

প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য সবল রাখতে বছর জুড়ে পুনর্মিলনী, বনভোজন, ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ইত্যাদির উদ্যোগ-আয়োজন রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন সকালে শাখার আগ্রহী সদস্যগণ জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে প্রাতঃভ্রমণ শেষে এক অনাবিল প্রবীণ আড্ডায় মিলিত হন এবং মানসিক প্রশান্তি নিয়ে দিনের যাত্রা শুরু করেন।

এছাড়া গল্প, উপন্যাস, ধর্মীয়, স্বাস্থ্য, ইতিহাস, দর্শন ইত্যাদি নানা ধরনের পুস্তক, জার্নাল, সাময়িকী, ম্যাগাজিন, সংবাদপত্র ইত্যাদির একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে।

ঘ) ইফতার ও দোয়া মাহফিল:

প্রতি বছর রমজান মাসে প্রবীণদের নিয়ে দোয়া মাহফিল ও ইফতারের আয়োজন করা হয়।

ঙ) পারিবারিক কাউন্সিলিং:

শাখার কোন সদস্য বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতা বা পারিবারিক অশান্তির কারণে অসহায় বোধ করলে শাখার পক্ষ থেকে তাঁর বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়পূর্বক পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান ও সান্ত্বনা দেয়া হয়। পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী প্রবীণের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্র সংঘ প্রবীণের সহযোগী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে।

চ) আন্তঃকক্ষ ক্রীড়া অনুশীলন:

চিত্ত-বিনোদন ও শরীর চর্চার জন্য বিকালে আঞ্চলিক অফিসে প্রবীণদের জন্য আন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ছ) প্রশিক্ষণ ও সামাজিক কর্মসূচি:

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনজিও এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আর্থিক সহায়তা পেলে 'প্রবীণস্বাস্থ্য ও কল্যাণ' শীর্ষক কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা নেয়া হবে। পাশাপাশি প্রবীণদের অবস্থা, সমস্যা এবং সেবাযত্নের ব্যাপারে গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রবীণদের স্বস্তিপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন জীবন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সমাবেশ, ক্যাম্পেইন, ইত্যাদির আয়োজন করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা:

১) প্রবীণ বান্ধব একটি সমৃদ্ধ প্রবীণ নিবাস কাম হাসপাতাল তথা একটি প্রবীণ কমপেক্স স্থাপন।

২) সরকার ঘেষিত প্রবীণ নীতিমালা-২০১৩ এবং পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩ এর পূর্ণ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ।

৩) প্রবীণবান্ধব রাষ্ট্রীয় সকল বিনোদন কেন্দ্র ও ঐতিহাসিক স্থানসমূহে বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করণে প্রচেষ্টা গ্রহণ।

৪) রেলওয়ে, বাস, স্টিমার ও লঞ্চে পৃথক সিট ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকিটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করণে পদক্ষেপ নেয়া।

৫) সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসমূহে সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাপত্র এবং আলাদা কাউন্টারের উদ্যোগ গ্রহণ।

৬) সমাজকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, বিশিষ্টজনদের সাথে নিয়ে সমাজে ও পরিবারে প্রবীণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারণা, সেমিনার, সমাবেশ, ক্যাম্পেইন ইত্যাদির আয়োজন করা।


দৈনিক সমাবেশ

প্রকাশকঃ মো: রবিউল ইসলাম ।
সম্পাদকঃ নিজামুল হক ।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: 2/2-c পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ই-মেইল: dainiksomabesh@gmail.com
টেলিফোনঃ 02226638261 মোবাইলঃ +880 1408-350003
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সমাবেশ