অবকাঠামো ও শিল্পে বিনিয়োগ সহযোগিতায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের সমঝোতা স্মারক সই ১ ঘণ্টা আগে

হামের টিকা কেন আমদানি করা হয়নি, দায়ীদের জবাবদিহিতা হবে -- স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ১ ঘণ্টা আগে

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১ ঘণ্টা আগে

সিউলে আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ অধিবেশন উদ্বোধন, ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো: ইসমাঈল জবিউল্লাহ ১ ঘণ্টা আগে

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে কোটি টাকা লেনদেনে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি ১ ঘণ্টা আগে
দৈনিক সমাবেশ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সিউলে আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ অধিবেশন উদ্বোধন, ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো: ইসমাঈল জবিউল্লাহ

সিউলে আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ অধিবেশন উদ্বোধন, ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো: ইসমাঈল জবিউল্লাহ

পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ (তের) প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন

৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ (তের) প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন

কর্তব্যরত অবস্থায় আহত পুলিশ সদস্যকে দেখতে হাসপাতালে ডিএমপি কমিশনার

কর্তব্যরত অবস্থায় আহত পুলিশ সদস্যকে দেখতে হাসপাতালে ডিএমপি কমিশনার

মোংলা বন্দরে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মোংলা বন্দরে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

৭ই নভেম্বর 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬' উপলক্ষ্যে সরকার কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি

৭ই নভেম্বর 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬' উপলক্ষ্যে সরকার কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারকারী হিসেবে নয় বরং এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে।

আজ রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নিষ্ক্রিয় অংশীদার নয় বরং সক্রিয় অংশীদার হওয়াই হবে আমাদের লক্ষ্য। এআইনির্ভর নয়, বরং এআই সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ এক মহাপরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। আগামী দশকে এ পরিবর্তন দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, তা অনেকাংশেই নির্ধারণ করবে এআই।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তি নয় বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এআইকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তরুণদের প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান সৈনিকে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশকেও এ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

এসময় রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ী সমাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা সৃষ্টি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এআইয়ের সুফল পেতে দেশের তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প বিশ্বে দেশকে একটি পরিচিতি দিয়েছে। একইভাবে দেশের তরুণরা যদি যথাযথ সক্ষমতা নিয়ে এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে, তাহলে তারাই বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করার সম্ভাবনা রাখে।

এআই-এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মূল্যবোধকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে। এতে নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজও শুরু হয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশে এআই-এর ব্যবহার এবং সম্প্রসারনের বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ যখন শিক্ষিত বেকার, তখন এআই নতুন করে বেকারত্ব সৃষ্টি করবে কি না সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকি ও আশঙ্কাও রয়েছে। এ প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয় সে বিষয়ে প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটেও পড়তে পারে।

তিনি বলেন, কোনো প্রযুক্তি গ্রহণের আগে সেটি কতটা টেকসই এবং দেশের জন্য কতটা উপযোগী, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করতে হবে। যে প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে ক্ষতির কারণ হবে তা গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রযুক্তি তখনই প্রকৃত অর্থে উপযোগী হয়, যখন তা মানুষের কল্যাণে এবং সভ্যতার অগ্রগতিতে কাজে লাগে।

এসময় তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এআই-এর ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

এর আগে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হয়।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন,

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) কেবল কোনো প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি আমাদের উৎপাদনশীলতা,প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির একটি অন্যতম নির্ধারক। 

 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য তুলে ধরে জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে এআই-এর অবদান প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। বাংলাদেশকে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে সাড়া দিতে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে এআই-এর কৌশলগত ব্যবহার (Strategic use) নিশ্চিত করতে হবে। 

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি এআই-বান্ধব ইকোসিস্টেম (AI-friendly ecosystem) গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। 

বক্তৃতায় মন্ত্রী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে জানান, আধুনিক প্রযুক্তির নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং ডেটা প্রাইভেসি রক্ষা ও ইনোভেশন ত্বরান্বিত করতে সরকার ন্যাশনাল এআই পলিসি (National AI Policy) প্রণয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান তৈরিতে দেশীয় স্টার্টআপ ও গবেষকদের বিশেষ গবেষণা অনুদান, ইনকিউবেশন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং এমএসএমই খাতের বিকাশে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। সর্বসাধারণের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষকে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে একটি শক্তিশালী বাংলা ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্ত্রী জানান। 

ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এআই ও মেশিন লার্নিং-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সচেতন থেকে মানব কল্যাণে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

 তৈরি পোশাক, ব্যাংকিং, লজিস্টিকস ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বেসরকারি খাতগুলোতে এআই ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞান মন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ সহযোগিতায় বাংলাদেশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের একটি বৈশ্বিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, অর্থনৈতিক আধুনিকীকরণ ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারের নীতি ও রূপরেখার আলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত এই অগ্রযাত্রায় তরুণ সমাজ, উদ্যোক্তা ও গবেষকদের এআই, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং মেশিন লার্নিং বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

 দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও  বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ একটি নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে অবাধ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে উদ্যোক্তারা কোনপ্রকার অপ্রয়োজনীয় বাধা বা হয়রানির শিকার না হয়ে কাজ করতে পারেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন একটি সমন্বিত ‘Science, Technology and Innovation-STI’ কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। 

বক্তব্যে সচিব বলেন,  বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি ও রোবোটিক্সের মতো অগ্রসর প্রযুক্তির সুফল দেশের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। এই কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে তিনি পারস্পরিক সম্পৃক্ত চারটি প্রধান স্তম্ভ-এসটিইএম (STEM) শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা থেকে বাণিজ্যিক প্রয়োগ (Research to Market), স্টার্টআপ ও শিল্পখাতে উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ (Innovation to Market) এবং ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিতে জাতীয় সক্ষমতা অর্জন। 

বিজ্ঞান সচিব আরও বলেন,  গত জুলাইয়ে ‘BEAR Summit’, সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং সেপ্টেম্বরে ‘Bangladesh Innovation Fair ২০২৬’-এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে সরকার উদ্ভাবক, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের এক প্ল্যাটফর্মে আনার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর নৈতিক ব্যবহার, তথ্য সুরক্ষা এবং দেশের নিজস্ব চাহিদা মেটাতে একটি ‘National AI Platform’ গড়ে তোলার ওপরও তিনি বিশেষ তাগিদ দেন। তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এই রূপান্তর সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সরকার, একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের কার্যকর ত্রিমুখী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতীয় উদ্ভাবনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।  

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইসিসি), বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান।

এতে কী-নোট স্পীকার হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন রেডিনেস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস লিমিটেড-যুক্তরাজ্য-এর সিইও ও সাবেক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অফ কমার্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উদ্ভাবক, কর্পোরেট সেক্টরের উদ্যোক্তা ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 

পরে রাষ্ট্রপতি অতিথিদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশের-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গনে  'Bangladesh AI Business Summit 2026 উপলক্ষ্যে স্থাপিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।  

উল্লেখ্য যে, সামিটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি, প্রযুক্তি প্রদানকারী এবং উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে 

১৫০টির বেশি  প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবন প্রদর্শন করেছে এবং ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবকরা তাদের এআই প্রজেক্ট তুলে ধরেছেন। 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক সমাবেশ

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারকারী হিসেবে নয় বরং এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে।

আজ রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নিষ্ক্রিয় অংশীদার নয় বরং সক্রিয় অংশীদার হওয়াই হবে আমাদের লক্ষ্য। এআইনির্ভর নয়, বরং এআই সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ এক মহাপরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। আগামী দশকে এ পরিবর্তন দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, তা অনেকাংশেই নির্ধারণ করবে এআই।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তি নয় বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এআইকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তরুণদের প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান সৈনিকে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশকেও এ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

এসময় রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ী সমাজকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা সৃষ্টি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এআইয়ের সুফল পেতে দেশের তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প বিশ্বে দেশকে একটি পরিচিতি দিয়েছে। একইভাবে দেশের তরুণরা যদি যথাযথ সক্ষমতা নিয়ে এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে, তাহলে তারাই বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন পরিচয়ে পরিচিত করার সম্ভাবনা রাখে।

এআই-এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মূল্যবোধকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে। এতে নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজও শুরু হয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশে এআই-এর ব্যবহার এবং সম্প্রসারনের বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ যখন শিক্ষিত বেকার, তখন এআই নতুন করে বেকারত্ব সৃষ্টি করবে কি না সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকি ও আশঙ্কাও রয়েছে। এ প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয় সে বিষয়ে প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটেও পড়তে পারে।

তিনি বলেন, কোনো প্রযুক্তি গ্রহণের আগে সেটি কতটা টেকসই এবং দেশের জন্য কতটা উপযোগী, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করতে হবে। যে প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে ক্ষতির কারণ হবে তা গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রযুক্তি তখনই প্রকৃত অর্থে উপযোগী হয়, যখন তা মানুষের কল্যাণে এবং সভ্যতার অগ্রগতিতে কাজে লাগে।

এসময় তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এআই-এর ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

এর আগে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হয়।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন,

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) কেবল কোনো প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এটি আমাদের উৎপাদনশীলতা,প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির একটি অন্যতম নির্ধারক। 

 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য তুলে ধরে জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে এআই-এর অবদান প্রায় ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। বাংলাদেশকে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে সাড়া দিতে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে এআই-এর কৌশলগত ব্যবহার (Strategic use) নিশ্চিত করতে হবে। 

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি এআই-বান্ধব ইকোসিস্টেম (AI-friendly ecosystem) গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। 

বক্তৃতায় মন্ত্রী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে জানান, আধুনিক প্রযুক্তির নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং ডেটা প্রাইভেসি রক্ষা ও ইনোভেশন ত্বরান্বিত করতে সরকার ন্যাশনাল এআই পলিসি (National AI Policy) প্রণয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান তৈরিতে দেশীয় স্টার্টআপ ও গবেষকদের বিশেষ গবেষণা অনুদান, ইনকিউবেশন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং এমএসএমই খাতের বিকাশে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। সর্বসাধারণের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষকে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে একটি শক্তিশালী বাংলা ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং তৈরি করা হচ্ছে বলে মন্ত্রী জানান। 

ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এআই ও মেশিন লার্নিং-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সচেতন থেকে মানব কল্যাণে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

 তৈরি পোশাক, ব্যাংকিং, লজিস্টিকস ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বেসরকারি খাতগুলোতে এআই ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞান মন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ সহযোগিতায় বাংলাদেশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের একটি বৈশ্বিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, অর্থনৈতিক আধুনিকীকরণ ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারের নীতি ও রূপরেখার আলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত এই অগ্রযাত্রায় তরুণ সমাজ, উদ্যোক্তা ও গবেষকদের এআই, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং মেশিন লার্নিং বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

 দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও  বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ একটি নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে অবাধ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ব্যবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে উদ্যোক্তারা কোনপ্রকার অপ্রয়োজনীয় বাধা বা হয়রানির শিকার না হয়ে কাজ করতে পারেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন একটি সমন্বিত ‘Science, Technology and Innovation-STI’ কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। 

বক্তব্যে সচিব বলেন,  বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি ও রোবোটিক্সের মতো অগ্রসর প্রযুক্তির সুফল দেশের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। এই কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে তিনি পারস্পরিক সম্পৃক্ত চারটি প্রধান স্তম্ভ-এসটিইএম (STEM) শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা থেকে বাণিজ্যিক প্রয়োগ (Research to Market), স্টার্টআপ ও শিল্পখাতে উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণ (Innovation to Market) এবং ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিতে জাতীয় সক্ষমতা অর্জন। 

বিজ্ঞান সচিব আরও বলেন,  গত জুলাইয়ে ‘BEAR Summit’, সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং সেপ্টেম্বরে ‘Bangladesh Innovation Fair ২০২৬’-এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে সরকার উদ্ভাবক, গবেষক ও বিনিয়োগকারীদের এক প্ল্যাটফর্মে আনার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর নৈতিক ব্যবহার, তথ্য সুরক্ষা এবং দেশের নিজস্ব চাহিদা মেটাতে একটি ‘National AI Platform’ গড়ে তোলার ওপরও তিনি বিশেষ তাগিদ দেন। তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এই রূপান্তর সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সরকার, একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের কার্যকর ত্রিমুখী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতীয় উদ্ভাবনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।  

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইসিসি), বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান।

এতে কী-নোট স্পীকার হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন রেডিনেস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস লিমিটেড-যুক্তরাজ্য-এর সিইও ও সাবেক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অফ কমার্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উদ্ভাবক, কর্পোরেট সেক্টরের উদ্যোক্তা ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 

পরে রাষ্ট্রপতি অতিথিদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশের-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গনে  'Bangladesh AI Business Summit 2026 উপলক্ষ্যে স্থাপিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।  

উল্লেখ্য যে, সামিটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি, প্রযুক্তি প্রদানকারী এবং উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে 

১৫০টির বেশি  প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবন প্রদর্শন করেছে এবং ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবকরা তাদের এআই প্রজেক্ট তুলে ধরেছেন। 


দৈনিক সমাবেশ

প্রকাশকঃ মো: রবিউল ইসলাম ।
সম্পাদকঃ নিজামুল হক ।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: 2/2-c পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ই-মেইল: dainiksomabesh@gmail.com
টেলিফোনঃ 02226638261 মোবাইলঃ +880 1408-350003
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সমাবেশ