দৈনিক সমাবেশ
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

ফেনী সদর হাসপাতালে ডাক্তার নার্সের অবহেলায় সাপে কাটা নাছিমার মৃত্যু

ফেনী সদর হাসপাতালে ডাক্তার নার্সের অবহেলায় সাপে কাটা নাছিমার মৃত্যু

গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার তখন রাত আনুমানিক  ২টা। বাইরে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ শুনে দরজা খোলেন নাছিমা আক্তার। খাবার জন্য বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করবেন, এটাই ছিল ইচ্ছা।

কিন্তু তার সে ইচ্ছা পূরণ হলো না। দরজা খুলে বাইরে পা রাখতেই অন্ধকারে মৃত্যু ছোবল বসালো  অচেনা এক বিষধর সাপ।

ঘরে নাসিমার মা, স্বামী আর পুত্রবধু তখনো গভীর ঘুমে ছিলেন। নাসিমা প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। বিষক্রিয়া বাড়ার সাথে, সাথে ছটফট করতে থাকেন তিনি। আধাঘন্টার মধ্যে তাকে নিয়ে আসা হয় ফেনী সদর হাসপাতালে। ঘুম, ঘুম চোখে জেগে উঠলেন ডিউটি ডাক্তার চিরঞ্জিত সরকার। সাপে কাটার লক্ষণগুলো ভালো করে না দেখেই রোগিকে ভর্তি দিলেন ৬ তলায় মেডিসিন বিভাগে। তার স্বামী বার, বার এন্টিভেনম দেয়ার কথা বললেও ডাক্তার তাতে কর্ণপাত করেনি। 

হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নাসিমার চিকিৎসা চলাকালে ডাক্তারের সাথে শাহাদাত নামে এক কর্মচারী ছিলেন। তিনি বলেন, বিষধর সাপের কামড় নির্ণয় করতে রোগির রক্ত জমাট বেঁধেছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।

রক্ত জমাট না বাঁধায় ডাক্তারের পরামর্শে রোগিকে ৬ তলার মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। এসময় সেখানে কর্মরত ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স আলো রানী কর্মকার। তিনি জুনিয়র নার্সদের দিয়ে একটি স্যালাইন পুশ করিয়ে রোগিকে ৬ তলার ফ্লোরে শুইয়ে রাখেন। বিষক্রিয়ায় ছটফট করতে, করতেই আঘা ঘন্টার মধ্যে নাসিমার মৃত্যু হয়। নিহত নাসিমা ফেনী সদর উপজেলার বড় ধলিয়া গ্রামের আবদুল হামিদ মৌলভী বাড়ির আহমদ করিমের স্ত্রী।

বিষধর সাপ ও সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা করেন এমন একজন জানান, গোখরা জাতীয় সাপের বিষে সাধারণত রোগির রক্ত জমাট বাঁধে না।

গোখরার বিষ মূলত নিউরোটক্সিন জাতীয়। যা সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেমকে আক্রমণ করে। 

গোখরা বা কোবরা সাপে কামড়ালে এই বিষ শরীরের মাংসপেশিকে অবশ বা প্যারালাইজড করে দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে শ্বাসকষ্টের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডাক্তার, চিরঞ্জিত, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মোবারক হোসেন দুলাল ও নার্স আলো রানীকে ফোনে পাওয়া যায়নি। জরুরী বিভাগের সিনিয়র স্টাফ ব্রাদার আবদুস সাত্তার জানান, রাত ৩টা ২৫ মিনিটে অচেনা সাপের কামড়ে এক মহিলাকে জরুরী বিভাগে আনা হয়। ডিউটি ডাক্তার তাকে ৬ তলায় মেডিসিন বিভাগে ভর্তি দিয়েছেন। যা রেজিস্ট্রারে উল্লেখ আছে।

নিহতের স্বামী আহমদ করিম জানান, তার স্ত্রীকে বিষধর সাপে কামড়ালেও সাপের এন্টিভেনম দেওয়া হয়নি। পরে বিষক্রিয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে তার মৃত্যু হয়। 

বাদ জুমা জানাযা শেষে মরহুমাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ফেনী সদর হাসপাতালে ডাক্তার নার্সের অবহেলায় সাপে কাটা নাছিমার মৃত্যু
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক সমাবেশ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফেনী সদর হাসপাতালে ডাক্তার নার্সের অবহেলায় সাপে কাটা নাছিমার মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার তখন রাত আনুমানিক  ২টা। বাইরে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ শুনে দরজা খোলেন নাছিমা আক্তার। খাবার জন্য বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করবেন, এটাই ছিল ইচ্ছা।

কিন্তু তার সে ইচ্ছা পূরণ হলো না। দরজা খুলে বাইরে পা রাখতেই অন্ধকারে মৃত্যু ছোবল বসালো  অচেনা এক বিষধর সাপ।

ঘরে নাসিমার মা, স্বামী আর পুত্রবধু তখনো গভীর ঘুমে ছিলেন। নাসিমা প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। বিষক্রিয়া বাড়ার সাথে, সাথে ছটফট করতে থাকেন তিনি। আধাঘন্টার মধ্যে তাকে নিয়ে আসা হয় ফেনী সদর হাসপাতালে। ঘুম, ঘুম চোখে জেগে উঠলেন ডিউটি ডাক্তার চিরঞ্জিত সরকার। সাপে কাটার লক্ষণগুলো ভালো করে না দেখেই রোগিকে ভর্তি দিলেন ৬ তলায় মেডিসিন বিভাগে। তার স্বামী বার, বার এন্টিভেনম দেয়ার কথা বললেও ডাক্তার তাতে কর্ণপাত করেনি। 

হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নাসিমার চিকিৎসা চলাকালে ডাক্তারের সাথে শাহাদাত নামে এক কর্মচারী ছিলেন। তিনি বলেন, বিষধর সাপের কামড় নির্ণয় করতে রোগির রক্ত জমাট বেঁধেছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।

রক্ত জমাট না বাঁধায় ডাক্তারের পরামর্শে রোগিকে ৬ তলার মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। এসময় সেখানে কর্মরত ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স আলো রানী কর্মকার। তিনি জুনিয়র নার্সদের দিয়ে একটি স্যালাইন পুশ করিয়ে রোগিকে ৬ তলার ফ্লোরে শুইয়ে রাখেন। বিষক্রিয়ায় ছটফট করতে, করতেই আঘা ঘন্টার মধ্যে নাসিমার মৃত্যু হয়। নিহত নাসিমা ফেনী সদর উপজেলার বড় ধলিয়া গ্রামের আবদুল হামিদ মৌলভী বাড়ির আহমদ করিমের স্ত্রী।

বিষধর সাপ ও সাপের বিষ নিয়ে গবেষণা করেন এমন একজন জানান, গোখরা জাতীয় সাপের বিষে সাধারণত রোগির রক্ত জমাট বাঁধে না।

গোখরার বিষ মূলত নিউরোটক্সিন জাতীয়। যা সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেমকে আক্রমণ করে। 

গোখরা বা কোবরা সাপে কামড়ালে এই বিষ শরীরের মাংসপেশিকে অবশ বা প্যারালাইজড করে দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে শ্বাসকষ্টের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডাক্তার, চিরঞ্জিত, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মোবারক হোসেন দুলাল ও নার্স আলো রানীকে ফোনে পাওয়া যায়নি। জরুরী বিভাগের সিনিয়র স্টাফ ব্রাদার আবদুস সাত্তার জানান, রাত ৩টা ২৫ মিনিটে অচেনা সাপের কামড়ে এক মহিলাকে জরুরী বিভাগে আনা হয়। ডিউটি ডাক্তার তাকে ৬ তলায় মেডিসিন বিভাগে ভর্তি দিয়েছেন। যা রেজিস্ট্রারে উল্লেখ আছে।

নিহতের স্বামী আহমদ করিম জানান, তার স্ত্রীকে বিষধর সাপে কামড়ালেও সাপের এন্টিভেনম দেওয়া হয়নি। পরে বিষক্রিয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে তার মৃত্যু হয়। 

বাদ জুমা জানাযা শেষে মরহুমাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।


দৈনিক সমাবেশ

প্রকাশকঃ মো: রবিউল ইসলাম ।
সম্পাদকঃ নিজামুল হক ।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: 2/2-c পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ইমেইল: dainiksomabesh@gmail.com
টেলিফোনঃ 02226638261 মোবাইলঃ +880 1408-350003
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সমাবেশ