সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজলোর গাবুরা ইউনিয়নের সরদার পাড়ায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যার পর মরিয়মকে দাফনের সব প্রস্তুতি শেষ করেন স্বজনরা। পারিবারিক কবরস্থানে প্রস্তুত রাখা হয় নতুন কবর।
কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের কিনারা ঘেঁষে ইটের সড়ক ধরে সরদারপাড়ায় মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর বাড়ি। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শোকের মাতম। বাড়ির সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রতিবেশীরা।
মরিয়মের চাচি মুন্নী খাতুন জানান, মরদেহবাহী গাড়িটি পদ্মা সেতু পার হয়ে খুলনার কয়রা হয়ে সড়ক পথে আসে। এরপর মরিয়মের মরদেহ কয়রার কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে গাবুরার বাড়িতে পৌঁছায়। পরে দাফন করা হয়।
মরিয়মের স্বজনরা বলেন, ২০০৯ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আইলার পর-যখন মরিয়মের বয়স মাত্র দুই-তিন বছর তখন থেকেই সে পরিবারসহ ঢাকায় থাকত।
সাবেক গ্রাম পুলিশ গোলাম রহমান বলেন, মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকত। মাঝে মাঝে শুনতাম সে পড়ালেখা করছে, এসএসসি পরীক্ষাও দিয়েছিল। কিন্তু এত অল্প বয়সে এমন একটি ঘটনা কেন ঘটল, তার কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না।
এদিকে, মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সোমবার সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভকারীরা গাজী নজরুল ইসলামের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানান।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত রবিবার সন্ধ্যায় মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
মামলায় মরিয়মের স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে এবং অন্য আসামি ওবায়দুর পলাতক।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজলোর গাবুরা ইউনিয়নের সরদার পাড়ায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যার পর মরিয়মকে দাফনের সব প্রস্তুতি শেষ করেন স্বজনরা। পারিবারিক কবরস্থানে প্রস্তুত রাখা হয় নতুন কবর।
কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের কিনারা ঘেঁষে ইটের সড়ক ধরে সরদারপাড়ায় মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর বাড়ি। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শোকের মাতম। বাড়ির সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রতিবেশীরা।
মরিয়মের চাচি মুন্নী খাতুন জানান, মরদেহবাহী গাড়িটি পদ্মা সেতু পার হয়ে খুলনার কয়রা হয়ে সড়ক পথে আসে। এরপর মরিয়মের মরদেহ কয়রার কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে গাবুরার বাড়িতে পৌঁছায়। পরে দাফন করা হয়।
মরিয়মের স্বজনরা বলেন, ২০০৯ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আইলার পর-যখন মরিয়মের বয়স মাত্র দুই-তিন বছর তখন থেকেই সে পরিবারসহ ঢাকায় থাকত।
সাবেক গ্রাম পুলিশ গোলাম রহমান বলেন, মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকত। মাঝে মাঝে শুনতাম সে পড়ালেখা করছে, এসএসসি পরীক্ষাও দিয়েছিল। কিন্তু এত অল্প বয়সে এমন একটি ঘটনা কেন ঘটল, তার কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না।
এদিকে, মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সোমবার সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভকারীরা গাজী নজরুল ইসলামের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানান।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত রবিবার সন্ধ্যায় মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
মামলায় মরিয়মের স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে এবং অন্য আসামি ওবায়দুর পলাতক।

মতামত