দৈনিক সমাবেশ
প্রকাশ : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভুক্তি দাবিতে অবসরপ্রাপ্ত ইপিাআর সদস্যর সংবাদ সম্মেলন

বীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভুক্তি দাবিতে অবসরপ্রাপ্ত ইপিাআর সদস্যর সংবাদ সম্মেলন

মানিকগঞ্জে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

মানিকগঞ্জে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

ফুলবাড়ীতে পাটের ফলন ও দাম দুই-ই ভালো, স্বস্তিতে কৃষকেরা

ফুলবাড়ীতে পাটের ফলন ও দাম দুই-ই ভালো, স্বস্তিতে কৃষকেরা

ফুলবাড়ীতে আউশের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

ফুলবাড়ীতে আউশের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

পার্বতীপুর হ্যাচারি প্রকল্পের সভাকক্ষে দৈনিক জনতার ৪৩ তম বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত

পার্বতীপুর হ্যাচারি প্রকল্পের সভাকক্ষে দৈনিক জনতার ৪৩ তম বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ফুলবাড়ী উপজেলায় কোরিয়ান মার্শাল আর্ট তায়কোয়ানডো এর শুভ উদ্ভোধন

ফুলবাড়ী উপজেলায় কোরিয়ান মার্শাল আর্ট তায়কোয়ানডো এর শুভ উদ্ভোধন

মহাদেবপুরে ইউপি নির্বাচন পরিস্থিতি -১| উপজেলার সকল ইউনিয়নে জামাতের একক প্রার্থী বিএনপি'র গড়ে ৬ জন

মহাদেবপুরে ইউপি নির্বাচন পরিস্থিতি -১| উপজেলার সকল ইউনিয়নে জামাতের একক প্রার্থী বিএনপি'র গড়ে ৬ জন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

ফুলবাড়ীতে আউশের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

ফুলবাড়ীতে আউশের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

ধান-চাল উৎপাদনে প্রসিদ্ধ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় এ বছর আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হাসি নেই কৃষকের মুখে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রিমূল্য কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ কৃষকেরা। 

ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন হাটে জিরাশাইল, কাটারি ও ব্রি-২৮ জাতের ধান প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণ ধানের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কমেছে। অথচ সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। এদিকে, কৃষক ধান বিক্রি করে লোকসান গুনলেও চালের মোকামে তার কোনো প্রভাব নেই। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মোটা ও সরু জাতের চাল। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৩০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬৭ মেট্রিক টন। আউশের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে উপজেলার ৮৫০ জন প্রান্তিক চাষীকে বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এতে জনপ্রতি ৫ কেজি আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন কৃষকেদর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে শ্রমিকের মজুরি, সার, সেচ ও জমি প্রস্তুতিতে। এবার প্রতি বিঘা জমিতে এসব খাতে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বিপরীতে প্রতি বিঘায় ধানের ফলন হয়েছে ২০ থেকে ২২ মণ। প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করে কৃষকের আয় হচ্ছে ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা। ফলে উৎপাদন খরচই উঠছে না তাদের। 

কৃষকেরা জানান, ধান ঘরে তোলার পরপরই পারিবারিক খরচ, ঋণের টাকা পরিশোধসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে হয়। তাই বাজারে ধানের দাম কম থাকলেও বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। ধান বিক্রি করতে আসা খড়মপুর গ্রামের কৃষক সেলিম হোসেন জানান, তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আউশ ধান চাষ করেছেন। এ জন্য সমিতি থেকে ঋণও নিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন বিঘা জমিতে চাষ করতে তার প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ ও সংসারের খরচ চালানো নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। 

ফুলবাড়ী সদরের ধান আড়তদার লিটন প্রসাদ বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম নিম্নমুখী। গত দেড় সপ্তাহে প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আউশ ধান বাজারে ওঠার পর থেকেই দাম কমছে। উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির অন্যতম নেতা মঞ্জিল মোরশেদ বলেন, অন্তর্র্বতী সরকারের সময় বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়। এ কারণে দেশে উৎপাদিত চালের চাহিদা কমে গেছে। চাল আমদানির এ প্রভাব আমনের ভরা মৌসুমেও থাকবে। আর সেটি হলে আমন মৌসুমেও কৃষকেরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উপজেলায় আউশের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া সহ আবাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকছে। তবে আগামীতে উপজেলায় আউশের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ফুলবাড়ীতে আউশের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক সমাবেশ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফুলবাড়ীতে আউশের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ধান-চাল উৎপাদনে প্রসিদ্ধ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় এ বছর আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হাসি নেই কৃষকের মুখে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রিমূল্য কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ কৃষকেরা। 

ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন হাটে জিরাশাইল, কাটারি ও ব্রি-২৮ জাতের ধান প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণ ধানের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কমেছে। অথচ সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। এদিকে, কৃষক ধান বিক্রি করে লোকসান গুনলেও চালের মোকামে তার কোনো প্রভাব নেই। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মোটা ও সরু জাতের চাল। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৩০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬৭ মেট্রিক টন। আউশের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে উপজেলার ৮৫০ জন প্রান্তিক চাষীকে বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এতে জনপ্রতি ৫ কেজি আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন কৃষকেদর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে শ্রমিকের মজুরি, সার, সেচ ও জমি প্রস্তুতিতে। এবার প্রতি বিঘা জমিতে এসব খাতে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বিপরীতে প্রতি বিঘায় ধানের ফলন হয়েছে ২০ থেকে ২২ মণ। প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করে কৃষকের আয় হচ্ছে ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা। ফলে উৎপাদন খরচই উঠছে না তাদের। 

কৃষকেরা জানান, ধান ঘরে তোলার পরপরই পারিবারিক খরচ, ঋণের টাকা পরিশোধসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে হয়। তাই বাজারে ধানের দাম কম থাকলেও বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। ধান বিক্রি করতে আসা খড়মপুর গ্রামের কৃষক সেলিম হোসেন জানান, তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আউশ ধান চাষ করেছেন। এ জন্য সমিতি থেকে ঋণও নিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন বিঘা জমিতে চাষ করতে তার প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ ও সংসারের খরচ চালানো নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। 

ফুলবাড়ী সদরের ধান আড়তদার লিটন প্রসাদ বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম নিম্নমুখী। গত দেড় সপ্তাহে প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আউশ ধান বাজারে ওঠার পর থেকেই দাম কমছে। উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির অন্যতম নেতা মঞ্জিল মোরশেদ বলেন, অন্তর্র্বতী সরকারের সময় বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়। এ কারণে দেশে উৎপাদিত চালের চাহিদা কমে গেছে। চাল আমদানির এ প্রভাব আমনের ভরা মৌসুমেও থাকবে। আর সেটি হলে আমন মৌসুমেও কৃষকেরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উপজেলায় আউশের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া সহ আবাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকছে। তবে আগামীতে উপজেলায় আউশের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। 


দৈনিক সমাবেশ

প্রকাশকঃ মো: রবিউল ইসলাম ।
সম্পাদকঃ নিজামুল হক ।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: 2/2-c পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ই-মেইল: dainiksomabesh@gmail.com
টেলিফোনঃ 02226638261 মোবাইলঃ +880 1408-350003
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সমাবেশ