দৈনিক সমাবেশ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নড়াইলে মধুমতি নদী ভাঙনে দিশাহারা নদীপাড়ের মানুষ

নড়াইলে মধুমতি নদী ভাঙনে দিশাহারা নদীপাড়ের মানুষ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে মধুমতি নদী ভাঙ্গণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের শত শত মানুষ। গত দুই সপ্তাহে লোহাগড়া ও কোটাকোল ইউনিয়নে মধুমতি নদী ভাঙনের তীব্রতা আকার ধারন করেছে। দুটি ইউনিয়নের মধুমতি নদীর পাড়ে প্রায় ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ২৫০ একর ফসলি জমি,দুই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মধুমতি নদীতে চলে গেছে। তবে ঝুকির মধ্যে রয়েছে আরো প্রায় ২৫০টি পরিবার। 

স্থানীয়দের দাবি, এক সময় এসব এলাকায় প্রায় পাঁচশতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ছিল। মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এসব পরিবারের অনেকের ঘরবাড়ি বাপ দাদার কবর ও ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নিঃস্ব হয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ,নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা এবছর আরও বেড়েছে। মধুমতি নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনকে দূষছেন। তারা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ,নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন দেখা গেছে,মধুমতি নদী ভাঙনে ক্ষতি গ্রস্তদের মধ্যে লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের মিন্টু মোল্যা,ইসলাম ফকির, আলিম মোল্যা, আহাদ মোল্যা, নজরুল শেখ,আমিনুর আলী,হাই মোল্যা,রসুল মোল্যা এবং কোটাকোল ইউনিয়নে রায়পাশা গ্রামের মির্জা খাঁ,রেজন খাঁ,রহিমন বেগম, খলিল কাজী, শাহিন শিকদার, জাফর খাঁ ও মান্নান মোল্যাসহ আরও অনেক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান।

 লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের মিন্টু মোল্যা বলেন, রাতের বেলার ভাঙ্গণে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন কিছুই দেখা যায় না। কোথায় যাবো কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারিনা। আমরা গরীব মানুষ। টাকা পয়সাও নেই। যে অন্য জায়গায় সরে গিয়ে ঘর তোলবো। নদী ভাঙ্গণ রোধে কেউ আমাদের খোজ খবর রাখে না।

 কোটাকোল ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের রহিমন বেগম বলেন, আমাদের কয়েক বিঘে মাঠাম জমি মধুমতি নদী গর্ভে চলে গেছে। আগে দুইবার বাড়ি ভাঙ্গিছে। কষ্ট করে নতুন বাড়ি করিছি। নতুন বাড়িও ভাঙ্গার মুখি পড়িছে। নদী ভাঙ্গণে এলাকার মানুষরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

 লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস,এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন,ইজারাকৃত বালুমহাল বন্দোবস্তের বাইরে কোন ইজারাদার বালু উত্তোলণ করলে তার ইজারা বাতিলর করা  হবে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারি কমিশনার কে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলণ করার কারণে নদী পাড়ের লোকজনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তবে প্রকল্পের বাইরে আমরা কাজ করতে পারি না। তিনি আরো বলেন,নিয়ম বর্হিভূত ভাবে বালু উত্তোলন করার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

নড়াইলে মধুমতি নদী ভাঙনে দিশাহারা নদীপাড়ের মানুষ
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক সমাবেশ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


নড়াইলে মধুমতি নদী ভাঙনে দিশাহারা নদীপাড়ের মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে মধুমতি নদী ভাঙ্গণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের শত শত মানুষ। গত দুই সপ্তাহে লোহাগড়া ও কোটাকোল ইউনিয়নে মধুমতি নদী ভাঙনের তীব্রতা আকার ধারন করেছে। দুটি ইউনিয়নের মধুমতি নদীর পাড়ে প্রায় ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ২৫০ একর ফসলি জমি,দুই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মধুমতি নদীতে চলে গেছে। তবে ঝুকির মধ্যে রয়েছে আরো প্রায় ২৫০টি পরিবার। 

স্থানীয়দের দাবি, এক সময় এসব এলাকায় প্রায় পাঁচশতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ছিল। মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এসব পরিবারের অনেকের ঘরবাড়ি বাপ দাদার কবর ও ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নিঃস্ব হয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ,নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা এবছর আরও বেড়েছে। মধুমতি নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনকে দূষছেন। তারা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ,নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন দেখা গেছে,মধুমতি নদী ভাঙনে ক্ষতি গ্রস্তদের মধ্যে লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের মিন্টু মোল্যা,ইসলাম ফকির, আলিম মোল্যা, আহাদ মোল্যা, নজরুল শেখ,আমিনুর আলী,হাই মোল্যা,রসুল মোল্যা এবং কোটাকোল ইউনিয়নে রায়পাশা গ্রামের মির্জা খাঁ,রেজন খাঁ,রহিমন বেগম, খলিল কাজী, শাহিন শিকদার, জাফর খাঁ ও মান্নান মোল্যাসহ আরও অনেক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান।

 লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের মিন্টু মোল্যা বলেন, রাতের বেলার ভাঙ্গণে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। তখন কিছুই দেখা যায় না। কোথায় যাবো কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারিনা। আমরা গরীব মানুষ। টাকা পয়সাও নেই। যে অন্য জায়গায় সরে গিয়ে ঘর তোলবো। নদী ভাঙ্গণ রোধে কেউ আমাদের খোজ খবর রাখে না।

 কোটাকোল ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের রহিমন বেগম বলেন, আমাদের কয়েক বিঘে মাঠাম জমি মধুমতি নদী গর্ভে চলে গেছে। আগে দুইবার বাড়ি ভাঙ্গিছে। কষ্ট করে নতুন বাড়ি করিছি। নতুন বাড়িও ভাঙ্গার মুখি পড়িছে। নদী ভাঙ্গণে এলাকার মানুষরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

 লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস,এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন,ইজারাকৃত বালুমহাল বন্দোবস্তের বাইরে কোন ইজারাদার বালু উত্তোলণ করলে তার ইজারা বাতিলর করা  হবে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারি কমিশনার কে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলণ করার কারণে নদী পাড়ের লোকজনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তবে প্রকল্পের বাইরে আমরা কাজ করতে পারি না। তিনি আরো বলেন,নিয়ম বর্হিভূত ভাবে বালু উত্তোলন করার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ।


দৈনিক সমাবেশ

প্রকাশকঃ মো: রবিউল ইসলাম ।
সম্পাদকঃ নিজামুল হক ।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: 2/2-c পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ই-মেইল: dainiksomabesh@gmail.com
টেলিফোনঃ 02226638261 মোবাইলঃ +880 1408-350003
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সমাবেশ