সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলায় স্টল, তাঁবু, ডেকোরেশন ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন খাতে টাকা দিয়েও তাঁরা নিয়মিত বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। মেলার কারণে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও ভোগান্তি হচ্ছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চেয়ে ১১ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন জুঁই হানি ফার্মের স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা নাহিদা আক্তার। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর স্টলের তাঁবুর জন্য ৭ হাজার, ডেকোরেশনের জন্য ৯ হাজার, ইট বাবদ ৫ হাজার, দৈনিক চাঁদা হিসেবে ১ হাজার ৬০০ এবং তিনটি লাইটের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া শৌচাগার ব্যবহারে প্রতিবার ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। নাহিদা আক্তার ও অন্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের জন্য আলাদা টাকা নেওয়া হলেও সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রিতে সমস্যা হচ্ছে। আচার-চাটনির দোকানি আব্দুস সামাদ বলেন, তাঁর স্টলের তাঁবুর জন্য ২০ হাজার ও ডেকোরেশনের জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তাঁর দাবি, এ অর্থ অফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা দিতে হয়, যার মধ্যে পাঁচটি লাইটের জন্য ৫০০ টাকা রয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ২০ দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়েছে। এতে ছোট-বড় প্রায় ৪৩০টি স্টল রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। গড়ে ৩ হাজার টাকা হিসাবে ৪৩০টি স্টল থেকে দৈনিক আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ হিসাবে ২০ দিনে আদায়ের পরিমাণ ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া জামানত বাবদ প্রায় এক কোটি টাকা আদায়ের কথাও জানা গেছে। মেলার দোকানগুলোতে অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, অনিরাপদ সংযোগ থেকে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মেলার কারণে নবারুণ স্কুল, সরকারি মহিলা কলেজ ও বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা যায়, মেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য। মেলার চেয়ারম্যান নানা অজুহাতে প্রতিদিন দোকানিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। দোকান ভাড়ার নামে দূর দূরান্ত থেকে আসা দোকানদারদের কাছ থেকে এই টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন। বর্তমানে মেলাটি জমে উঠলেও লোকসান ঠেকাতে বাধ্য হয়ে মার্কেট ছাড়া বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে করে বিপাকে পড়েছে মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা।
স্থানীয়দের দাবি, এর প্রভাব পড়ছে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেও। তবে এ বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। মেলায় অর্থ আদায়ের বৈধতা, স্টল বরাদ্দ, জামানত, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন সাতক্ষীরাবাসী।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলায় স্টল, তাঁবু, ডেকোরেশন ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন খাতে টাকা দিয়েও তাঁরা নিয়মিত বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। মেলার কারণে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও ভোগান্তি হচ্ছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চেয়ে ১১ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন জুঁই হানি ফার্মের স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা নাহিদা আক্তার। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর স্টলের তাঁবুর জন্য ৭ হাজার, ডেকোরেশনের জন্য ৯ হাজার, ইট বাবদ ৫ হাজার, দৈনিক চাঁদা হিসেবে ১ হাজার ৬০০ এবং তিনটি লাইটের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া শৌচাগার ব্যবহারে প্রতিবার ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। নাহিদা আক্তার ও অন্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের জন্য আলাদা টাকা নেওয়া হলেও সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রিতে সমস্যা হচ্ছে। আচার-চাটনির দোকানি আব্দুস সামাদ বলেন, তাঁর স্টলের তাঁবুর জন্য ২০ হাজার ও ডেকোরেশনের জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তাঁর দাবি, এ অর্থ অফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা দিতে হয়, যার মধ্যে পাঁচটি লাইটের জন্য ৫০০ টাকা রয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ২০ দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়েছে। এতে ছোট-বড় প্রায় ৪৩০টি স্টল রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। গড়ে ৩ হাজার টাকা হিসাবে ৪৩০টি স্টল থেকে দৈনিক আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ হিসাবে ২০ দিনে আদায়ের পরিমাণ ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া জামানত বাবদ প্রায় এক কোটি টাকা আদায়ের কথাও জানা গেছে। মেলার দোকানগুলোতে অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, অনিরাপদ সংযোগ থেকে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মেলার কারণে নবারুণ স্কুল, সরকারি মহিলা কলেজ ও বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা যায়, মেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য। মেলার চেয়ারম্যান নানা অজুহাতে প্রতিদিন দোকানিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। দোকান ভাড়ার নামে দূর দূরান্ত থেকে আসা দোকানদারদের কাছ থেকে এই টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন। বর্তমানে মেলাটি জমে উঠলেও লোকসান ঠেকাতে বাধ্য হয়ে মার্কেট ছাড়া বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে করে বিপাকে পড়েছে মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা।
স্থানীয়দের দাবি, এর প্রভাব পড়ছে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেও। তবে এ বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। মেলায় অর্থ আদায়ের বৈধতা, স্টল বরাদ্দ, জামানত, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন সাতক্ষীরাবাসী।

মতামত