ফেনী সদরসহ জেলার সকল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ২২১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়,সরকারের আয়ের প্রধান উৎসের মধ্যে অন্যতম হলো ভূমি রাজস্ব কর, যাহা ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি অফিস বা তহসিল অফিস এবং উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে সরকারি এ রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে সরকারের কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে সরকারের এইখাত থেকে রাজস্ব আদায় অনেকগুন বেড়ে গেছে। বিশেষ করে অনলাইন সিস্টেমের কারণে একাধিক জন সাধারনের হয়রানি অনেক খানি কমেছে, অন্যদিকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস গুলোতেও স্বচ্ছতা এবং জবাব দিহিতা বেড়ে গেছে। অনলাইনে ভূমির দাখিলা, খতিয়ান, জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড) এর ব্যবহার দলিলপত্র পুঙ্খানু পুঙ্খরুপে যাচাই বাচাই এর কারণে বর্তমানে এ সকল অফিস গুলোতে অনেকাংশে স্বচ্ছতা এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজন জানিয়েছে। ফলে জনগণকে প্রতারণার মাধ্যমে ভূমি রেজিস্ট্রির পথও বন্ধ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে সরকারের অনলাইন সেবার কারণে এখাত থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হওয়ায় সরকারের অর্থ আদায় অনেকাংশে বেড়ে গেছে।
জেলা রেজিস্ট্রার, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, লেমুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, মতিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, দাগনভূঞা
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ছাগলনাইয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ফুলগাজী সাব রেজিস্ট্রি অফিস, পরশুরাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ছাপকবলা দানপত্র, হেবা, বিল, এওয়াজ, এওয়াজ বিনিময়, নাদাবী পত্র, বন্টন নামা, নির্দেশ পত্র, খাস মোক্তার নামা, চুক্তিপত্র, পার্টনার ডীড, পাওয়ার রহিতকরণ, ভুল সংশোধন করণ, ঘোষনাপত্র ইত্যাদি দলিল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সরকারি এ রাজস্ব আয় হয়েছে।
ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে চলতি বছরের ১৮ আগষ্ট মাসে মহা-পরিদর্শক নিবন্ধন বাংলাদেশ ঢাকায় পাঠানো প্রতিবেদন থেকে জানাযায়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন অর্থবছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ফেনী জেলার ০৭টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে ৩৯ হাজার ৩৫০টি দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ ২২১ কোটি ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬২ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।
ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী সুমন চৌধুরী জানান, জেলায় ৬টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করেছে। এখানে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৯ হাজার ৬৭৭টি দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ ১শ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে। এছাড়া লেমুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৪ হাজার ৮৪৫টি রেজিস্ট্রি বাবদ ১৫ কোটি, মতিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৭ হাজার ১৫০টি রেজিস্ট্রি বাবদ ২৫ কোটি ৭১ লাখ, দাগনভূঞা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৭ হাজার ৬৫৭টি রেজিস্ট্রি বাবদ ৩৬ কোটি ৪৬ হাজার, ছাগলনাইয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৪ হাজার ৩৯১টি রেজিস্ট্রি বাবদ ২১ কোটি ২৭ লাখ, ফুলগাজী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২ হাজার ৯৯৬টি রেজিস্ট্রি বাবদ ১১ কোটি, পরশুরাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২ হাজার ৬৩৪টি রেজিস্ট্রি বাবদ ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত অর্থ বছরে ৩৪ হাজার ৩ শত ৪৩ রেজিস্ট্রি বাবদ রাজস্ব আয় হয়েছে ২শ ২ কোটি ৯৯ লাখ ২৪ হাজার ৬শ ১০ টাকা। গত ১২ মাসে জেলার ৭ টি ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে সরকারের এই রাজস্ব আয় হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় জনসাধারণের ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিস (তহশিল অফিস গুলোতে) অনেক সময় ভূমির দাখিলার ক্ষেত্রে ১০ টাকার দাখিলা ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ভূমির মালিকদের থেকে আদায় করে থাকে। অতিরিক্ত দাখিলা ফি এর কারণে মানুষ ভূমি রেজিস্ট্রির কাজ থেকে বিরত থাকে। এক্ষেত্রে ভূমির দাখিলার সহজ লভ্যতা ও হয়রানী মুক্ত হলে মানুষ ভূমি রেজিস্ট্রির দিকে আগ্রহী হবে।
দাগনভূঞা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ অকিল উদ্দিন জানান, সরকারের রেজিস্ট্রি খরচ, উৎসকর, স্থানীয় সরকার কর এবং ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের কর গুলো সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা হয়ে সরকারের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নির্ধারিত কোড নাম্বারের মাধ্যমে রাজস্ব খাতে মোটা দাগে জমা হওয়ায় সরকার রাজস্ব আদায় এ ক্ষেত্রে অনেকাংশে বেড়ে গেছে।
ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম (চলতি দায়িত্ব) জানান, মৌজা রেইটের সামঞ্জস্যহীনতা দূর করে মৌজাকে এরিয়া ওয়ারি ৩ স্তরভেদে ভাগ করে মৌজা রেইট নির্ধারণ করলে জনগনের ভোগান্তি কমবে, ভূমি রেজিস্ট্রির হার বেড়ে রাজস্ব আদায় আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে। এতে সাধারণ জনগণ অনেকাংশে উপকৃত হবে। পাশা-পাশি পৌর এলাকার আশ-পাশের মৌজার একটি রেইট এবং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য আলাদা রেইট নির্ধারন করা গেলে ভূমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে একটা সামঞ্জস্যতা ফিরে আসবে।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ফেনী সদরসহ জেলার সকল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ২২১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়,সরকারের আয়ের প্রধান উৎসের মধ্যে অন্যতম হলো ভূমি রাজস্ব কর, যাহা ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি অফিস বা তহসিল অফিস এবং উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে সরকারি এ রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে সরকারের কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে সরকারের এইখাত থেকে রাজস্ব আদায় অনেকগুন বেড়ে গেছে। বিশেষ করে অনলাইন সিস্টেমের কারণে একাধিক জন সাধারনের হয়রানি অনেক খানি কমেছে, অন্যদিকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস গুলোতেও স্বচ্ছতা এবং জবাব দিহিতা বেড়ে গেছে। অনলাইনে ভূমির দাখিলা, খতিয়ান, জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড) এর ব্যবহার দলিলপত্র পুঙ্খানু পুঙ্খরুপে যাচাই বাচাই এর কারণে বর্তমানে এ সকল অফিস গুলোতে অনেকাংশে স্বচ্ছতা এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজন জানিয়েছে। ফলে জনগণকে প্রতারণার মাধ্যমে ভূমি রেজিস্ট্রির পথও বন্ধ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে সরকারের অনলাইন সেবার কারণে এখাত থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় হওয়ায় সরকারের অর্থ আদায় অনেকাংশে বেড়ে গেছে।
জেলা রেজিস্ট্রার, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, লেমুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, মতিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, দাগনভূঞা
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ছাগলনাইয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ফুলগাজী সাব রেজিস্ট্রি অফিস, পরশুরাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ছাপকবলা দানপত্র, হেবা, বিল, এওয়াজ, এওয়াজ বিনিময়, নাদাবী পত্র, বন্টন নামা, নির্দেশ পত্র, খাস মোক্তার নামা, চুক্তিপত্র, পার্টনার ডীড, পাওয়ার রহিতকরণ, ভুল সংশোধন করণ, ঘোষনাপত্র ইত্যাদি দলিল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সরকারি এ রাজস্ব আয় হয়েছে।
ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে চলতি বছরের ১৮ আগষ্ট মাসে মহা-পরিদর্শক নিবন্ধন বাংলাদেশ ঢাকায় পাঠানো প্রতিবেদন থেকে জানাযায়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন অর্থবছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ফেনী জেলার ০৭টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে ৩৯ হাজার ৩৫০টি দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ ২২১ কোটি ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬২ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।
ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী সুমন চৌধুরী জানান, জেলায় ৬টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করেছে। এখানে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৯ হাজার ৬৭৭টি দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ ১শ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে। এছাড়া লেমুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৪ হাজার ৮৪৫টি রেজিস্ট্রি বাবদ ১৫ কোটি, মতিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৭ হাজার ১৫০টি রেজিস্ট্রি বাবদ ২৫ কোটি ৭১ লাখ, দাগনভূঞা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৭ হাজার ৬৫৭টি রেজিস্ট্রি বাবদ ৩৬ কোটি ৪৬ হাজার, ছাগলনাইয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৪ হাজার ৩৯১টি রেজিস্ট্রি বাবদ ২১ কোটি ২৭ লাখ, ফুলগাজী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২ হাজার ৯৯৬টি রেজিস্ট্রি বাবদ ১১ কোটি, পরশুরাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২ হাজার ৬৩৪টি রেজিস্ট্রি বাবদ ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত অর্থ বছরে ৩৪ হাজার ৩ শত ৪৩ রেজিস্ট্রি বাবদ রাজস্ব আয় হয়েছে ২শ ২ কোটি ৯৯ লাখ ২৪ হাজার ৬শ ১০ টাকা। গত ১২ মাসে জেলার ৭ টি ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে সরকারের এই রাজস্ব আয় হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় জনসাধারণের ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিস (তহশিল অফিস গুলোতে) অনেক সময় ভূমির দাখিলার ক্ষেত্রে ১০ টাকার দাখিলা ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ভূমির মালিকদের থেকে আদায় করে থাকে। অতিরিক্ত দাখিলা ফি এর কারণে মানুষ ভূমি রেজিস্ট্রির কাজ থেকে বিরত থাকে। এক্ষেত্রে ভূমির দাখিলার সহজ লভ্যতা ও হয়রানী মুক্ত হলে মানুষ ভূমি রেজিস্ট্রির দিকে আগ্রহী হবে।
দাগনভূঞা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ অকিল উদ্দিন জানান, সরকারের রেজিস্ট্রি খরচ, উৎসকর, স্থানীয় সরকার কর এবং ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের কর গুলো সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা হয়ে সরকারের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নির্ধারিত কোড নাম্বারের মাধ্যমে রাজস্ব খাতে মোটা দাগে জমা হওয়ায় সরকার রাজস্ব আদায় এ ক্ষেত্রে অনেকাংশে বেড়ে গেছে।
ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম (চলতি দায়িত্ব) জানান, মৌজা রেইটের সামঞ্জস্যহীনতা দূর করে মৌজাকে এরিয়া ওয়ারি ৩ স্তরভেদে ভাগ করে মৌজা রেইট নির্ধারণ করলে জনগনের ভোগান্তি কমবে, ভূমি রেজিস্ট্রির হার বেড়ে রাজস্ব আদায় আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে। এতে সাধারণ জনগণ অনেকাংশে উপকৃত হবে। পাশা-পাশি পৌর এলাকার আশ-পাশের মৌজার একটি রেইট এবং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য আলাদা রেইট নির্ধারন করা গেলে ভূমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে একটা সামঞ্জস্যতা ফিরে আসবে।

মতামত