দৈনিক সমাবেশ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীতে বিশেষ কায়দায় মোটরসাইকেল চুরি, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীতে বিশেষ কায়দায় মোটরসাইকেল চুরি, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

টুথপিক-স্টেইনলেস স্টিলের আড়ালে প্রসাধনী ও পার্টস আমদানি: সিআইসির অভিযানে কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি উন্মোচিত

টুথপিক-স্টেইনলেস স্টিলের আড়ালে প্রসাধনী ও পার্টস আমদানি: সিআইসির অভিযানে কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি উন্মোচিত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার ধারাবাহিক সাফল্য

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার ধারাবাহিক সাফল্য

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একদিনেই ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ ও আইফোন আটক, আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একদিনেই ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ ও আইফোন আটক, আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা

তরুনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ২নং আসামি নাগ রাসেল (২০)'কে আটক করেছে এসআরবি-২

তরুনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ২নং আসামি নাগ রাসেল (২০)'কে আটক করেছে এসআরবি-২

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডায়মন্ড, প্লাটিনাম, রুবি ও স্বর্ণ অলংকার আটক

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডায়মন্ড, প্লাটিনাম, রুবি ও স্বর্ণ অলংকার আটক

কেএনএফ -এর প্রধান নাথান বমসহ ০৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের অভিযোগে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা

কেএনএফ -এর প্রধান নাথান বমসহ ০৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের অভিযোগে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা

ধর্ষন মামলার আসামী মোঃ কামাল হোসেন (৫০)’কে আটক করেছে এসআরবি-২

ধর্ষন মামলার আসামী মোঃ কামাল হোসেন (৫০)’কে আটক করেছে এসআরবি-২

ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে টাকা নিয়ে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতন, মানবপাচার চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে টাকা নিয়ে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতন, মানবপাচার চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার পর এক যুবককে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার, সেখানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকেল ৫টার দিকে সিআইডির চৌকস দল ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২), পিতা মো. আব্দুল মতিন, মাতা মোসা. আক্তার বানু, স্থায়ী ঠিকানা—বরিয়া, থানা-পীরগঞ্জ, জেলা-রংপুর; বর্তমানে গাওয়াইর রুবেলের বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা-দক্ষিণখান, ঢাকা এবং মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪), পিতা মৃত সামছুল আলম ভূঁইয়া, মাতা মৃত জোৎনা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা—কামালপুর, থানা-কসবা, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া; বর্তমানে বাসা নং-১৫৪, কলেজ রোড, আশকোনা, থানা-দক্ষিণখান, ঢাকা।

সূত্র মতে নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই সহযাত্রীর মাধ্যমে তিনি মানবপাচার চক্রের এক সদস্যের সঙ্গে পরিচিত হন। চক্রের সদস্যরা তাঁকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। এ জন্য ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁকে ইতালি পাঠানোর চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে তাঁর পাসপোর্ট জমা দেন এবং অগ্রিম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরে ৭ এপ্রিল তাঁকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে মিশরের কায়রোতে পাঠানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাঁকে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখে। পরে পূর্বের চুক্তির কথা বলে তাঁর কাছে আরও ৬ হাজার মার্কিন ডলার দাবি ও গ্রহণ করা হয়। এভাবে নগদ টাকা, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোট প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

এরপর ভুক্তভোগীকে মিশর থেকে গাড়িযোগে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত অতিক্রম করে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। পরবর্তীতে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যান্যদের সঙ্গে তাঁকেও আটক করে কারাগারে পাঠায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁকে মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছে আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

পরবর্তীতে লিবিয়া পুলিশ তাঁকে আটক করে ১৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে তিনি নিজেই বাদী হয়ে এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানার মামলা নং-২১, তারিখ-০৫/১০/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(১)/৬(২)/৭/৮(১)/৮(২)/১৪/১৫(১)/১৫(২)/১৮/১৯/২২ রুজু করেন।

মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর সিআইডি তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িতদের আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আতিকুর রহমান টমাস ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলালকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে টাকা নিয়ে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতন, মানবপাচার চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক সমাবেশ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে টাকা নিয়ে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতন, মানবপাচার চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার পর এক যুবককে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার, সেখানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকেল ৫টার দিকে সিআইডির চৌকস দল ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২), পিতা মো. আব্দুল মতিন, মাতা মোসা. আক্তার বানু, স্থায়ী ঠিকানা—বরিয়া, থানা-পীরগঞ্জ, জেলা-রংপুর; বর্তমানে গাওয়াইর রুবেলের বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা-দক্ষিণখান, ঢাকা এবং মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪), পিতা মৃত সামছুল আলম ভূঁইয়া, মাতা মৃত জোৎনা বেগম, স্থায়ী ঠিকানা—কামালপুর, থানা-কসবা, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া; বর্তমানে বাসা নং-১৫৪, কলেজ রোড, আশকোনা, থানা-দক্ষিণখান, ঢাকা।

সূত্র মতে নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই সহযাত্রীর মাধ্যমে তিনি মানবপাচার চক্রের এক সদস্যের সঙ্গে পরিচিত হন। চক্রের সদস্যরা তাঁকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। এ জন্য ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁকে ইতালি পাঠানোর চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে তাঁর পাসপোর্ট জমা দেন এবং অগ্রিম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরে ৭ এপ্রিল তাঁকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে মিশরের কায়রোতে পাঠানো হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাঁকে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখে। পরে পূর্বের চুক্তির কথা বলে তাঁর কাছে আরও ৬ হাজার মার্কিন ডলার দাবি ও গ্রহণ করা হয়। এভাবে নগদ টাকা, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোট প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

এরপর ভুক্তভোগীকে মিশর থেকে গাড়িযোগে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত অতিক্রম করে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাঁকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। পরবর্তীতে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যান্যদের সঙ্গে তাঁকেও আটক করে কারাগারে পাঠায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁকে মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছে আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

পরবর্তীতে লিবিয়া পুলিশ তাঁকে আটক করে ১৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে তিনি নিজেই বাদী হয়ে এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানার মামলা নং-২১, তারিখ-০৫/১০/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(১)/৬(২)/৭/৮(১)/৮(২)/১৪/১৫(১)/১৫(২)/১৮/১৯/২২ রুজু করেন।

মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর সিআইডি তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িতদের আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আতিকুর রহমান টমাস ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলালকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


দৈনিক সমাবেশ

প্রকাশকঃ মো: রবিউল ইসলাম ।
সম্পাদকঃ নিজামুল হক ।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: 2/2-c পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ই-মেইল: dainiksomabesh@gmail.com
টেলিফোনঃ 02226638261 মোবাইলঃ +880 1408-350003
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সমাবেশ