এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে কিংবা দেশের বিরুদ্ধেও নন। তাদের লক্ষ্য সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তোলা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা রংপুর লং মার্চের পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না। আমরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই তা পারছে না। আমরা সংস্কার চাই, করতে হবে।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিতে এ পথসভার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা রংপুর লং মার্চে।
পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এ লং মার্চ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমরা দলীয় দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামিনি। আমরা গণভোটের গণরায় নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে খাবে।’ একই সঙ্গে আন্দোলন সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা অধিকার আদায়ের জন্য উত্তরজনপদে লং মার্চে যাচ্ছি। গণদাবি নিয়ে ১১ দল রাজপথে নেমেছে। আন্দোলনের সফলতা নিয়ে ঘরে ফিরবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো উপায় নেই, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের টালবাহানা বরদাশত করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন মামুনুল হক।
এর আগে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লং মার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
লং মার্চের বহর তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা ও টঙ্গী অতিক্রম করার সময় হাজার হাজার নারী ও পুরুষ ফুল ও স্লোগানের মাধ্যমে তাদের অভিবাদন জানান। পরে বহরটি গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডের পথসভায় যোগ দেয়।
গাজীপুরের পথসভা শেষে লং মার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে আবার যাত্রা করে। পথে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস রোড, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সবশেষে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে লং মার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। লং মার্চের রুটের বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েতস্থলে অনানুষ্ঠানিক পথসভাও অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সংগঠনগুলোর ১১ দলের নেতাকর্মীদের দেওয়া অভিবাদন গ্রহণ করবে লং মার্চের বহর।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে কিংবা দেশের বিরুদ্ধেও নন। তাদের লক্ষ্য সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তোলা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা রংপুর লং মার্চের পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না। আমরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই তা পারছে না। আমরা সংস্কার চাই, করতে হবে।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিতে এ পথসভার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা রংপুর লং মার্চে।
পথসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এ লং মার্চ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমরা দলীয় দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামিনি। আমরা গণভোটের গণরায় নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে খাবে।’ একই সঙ্গে আন্দোলন সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা অধিকার আদায়ের জন্য উত্তরজনপদে লং মার্চে যাচ্ছি। গণদাবি নিয়ে ১১ দল রাজপথে নেমেছে। আন্দোলনের সফলতা নিয়ে ঘরে ফিরবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো উপায় নেই, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের টালবাহানা বরদাশত করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন মামুনুল হক।
এর আগে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লং মার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
লং মার্চের বহর তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা ও টঙ্গী অতিক্রম করার সময় হাজার হাজার নারী ও পুরুষ ফুল ও স্লোগানের মাধ্যমে তাদের অভিবাদন জানান। পরে বহরটি গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডের পথসভায় যোগ দেয়।
গাজীপুরের পথসভা শেষে লং মার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে আবার যাত্রা করে। পথে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস রোড, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সবশেষে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে লং মার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। লং মার্চের রুটের বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েতস্থলে অনানুষ্ঠানিক পথসভাও অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সংগঠনগুলোর ১১ দলের নেতাকর্মীদের দেওয়া অভিবাদন গ্রহণ করবে লং মার্চের বহর।

মতামত