দৈনিক সমাবেশ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

ডিবি (ওয়ারী) বিভাগের অভিযানে ‘হানি-ট্র্যাপ’ চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার পাঁচজন

ডিবি (ওয়ারী) বিভাগের অভিযানে ‘হানি-ট্র্যাপ’ চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার পাঁচজন

রাজধানীতে বিশেষ কায়দায় মোটরসাইকেল চুরি, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীতে বিশেষ কায়দায় মোটরসাইকেল চুরি, চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

টুথপিক-স্টেইনলেস স্টিলের আড়ালে প্রসাধনী ও পার্টস আমদানি: সিআইসির অভিযানে কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি উন্মোচিত

টুথপিক-স্টেইনলেস স্টিলের আড়ালে প্রসাধনী ও পার্টস আমদানি: সিআইসির অভিযানে কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি উন্মোচিত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার ধারাবাহিক সাফল্য

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার ধারাবাহিক সাফল্য

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একদিনেই ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ ও আইফোন আটক, আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একদিনেই ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ ও আইফোন আটক, আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা

তরুনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ২নং আসামি নাগ রাসেল (২০)'কে আটক করেছে এসআরবি-২

তরুনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার ২নং আসামি নাগ রাসেল (২০)'কে আটক করেছে এসআরবি-২

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডায়মন্ড, প্লাটিনাম, রুবি ও স্বর্ণ অলংকার আটক

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডায়মন্ড, প্লাটিনাম, রুবি ও স্বর্ণ অলংকার আটক

কেএনএফ -এর প্রধান নাথান বমসহ ০৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের অভিযোগে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা

কেএনএফ -এর প্রধান নাথান বমসহ ০৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের অভিযোগে সিআইডির মানিলন্ডারিং মামলা

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

রিমান্ড আবেদনে তিনটি কারণ তুলে ধরেছে তদন্ত সংস্থা। এতে বলা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। তাঁর মা ১৯৯৬ সাল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন এবং এ দাবিতে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, ডন অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলায় জড়িত অন্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কী কারণে, কী কৌশলে এবং কার ইন্ধনে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়েও তথ্য জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ওইদিনই কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট সিএমএম আদালতে তার জামিন আবেদন নাকচ হয়। এরপর ২৫ আগস্ট দায়রা আদালতও জামিন আবেদন খারিজ করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। প্রথমে তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরের বছর ২৪ জুলাই তিনি ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এ অভিযোগ তুলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। আদালত অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন। সিআইডির প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন।

সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামীরা হক ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। মামলায় আরও অনেক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাঁদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে।

পরে দ্রুত বাসায় ফিরে তারা সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। কয়েকজন বহিরাগত নারী তখন তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পাওয়ার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন—এমনটাই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।

মোহাম্মদ আলমগীরের অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সালমানের বাবা কমরউদ্দীন আহমদ চৌধুরীও ছেলের মৃত্যু নিয়ে হত্যার সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে রমনা থানার অপমৃত্যুর মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের অনুরোধ জানান।

সালমানের বাবার মৃত্যুর পর তাঁর বোনের পক্ষে আলমগীর মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলার কোনো আসামি এরই মধ্যে মারা গিয়ে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গত ২০ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে লাশ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করলে আদালত সেটি নথিভুক্ত করেন। এরপর ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপিও আদালতে দাখিল করে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
0:00 0:00
1.0x
দৈনিক সমাবেশ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট ডনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৭ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

রিমান্ড আবেদনে তিনটি কারণ তুলে ধরেছে তদন্ত সংস্থা। এতে বলা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। তাঁর মা ১৯৯৬ সাল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন এবং এ দাবিতে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, ডন অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলায় জড়িত অন্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কী কারণে, কী কৌশলে এবং কার ইন্ধনে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়েও তথ্য জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ওইদিনই কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট সিএমএম আদালতে তার জামিন আবেদন নাকচ হয়। এরপর ২৫ আগস্ট দায়রা আদালতও জামিন আবেদন খারিজ করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। প্রথমে তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরের বছর ২৪ জুলাই তিনি ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এ অভিযোগ তুলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। আদালত অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন। সিআইডির প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন।

সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামীরা হক ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। মামলায় আরও অনেক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাঁদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে।

পরে দ্রুত বাসায় ফিরে তারা সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। কয়েকজন বহিরাগত নারী তখন তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পাওয়ার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন—এমনটাই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।

মোহাম্মদ আলমগীরের অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সালমানের বাবা কমরউদ্দীন আহমদ চৌধুরীও ছেলের মৃত্যু নিয়ে হত্যার সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে রমনা থানার অপমৃত্যুর মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের অনুরোধ জানান।

সালমানের বাবার মৃত্যুর পর তাঁর বোনের পক্ষে আলমগীর মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলার কোনো আসামি এরই মধ্যে মারা গিয়ে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গত ২০ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে লাশ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করলে আদালত সেটি নথিভুক্ত করেন। এরপর ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপিও আদালতে দাখিল করে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।


দৈনিক সমাবেশ

প্রকাশকঃ মো: রবিউল ইসলাম ।
সম্পাদকঃ নিজামুল হক ।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: 2/2-c পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ই-মেইল: dainiksomabesh@gmail.com
টেলিফোনঃ 02226638261 মোবাইলঃ +880 1408-350003
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সমাবেশ